ঢাকার দক্ষিণ কেরানিগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর শিশু ইশান (৯) তার পরিবার ফিরে পেয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ইশানের মা জেসমিন আক্তারের কাছে হস্তান্তর করেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ।
জানা যায়, গত ১৯শে জুলাই শুক্রবার সকালে ঢাকার সদরঘাট থেকে একটি লঞ্চ ছেড়ে আসে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুরে। আর সেই লঞ্চে করে ইশানও চলে আসে। ইশান রামচন্দ্রপুর বাজারের জায়েদ আলী মার্কেটের সামনে ঘুরাফেরা করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে শিপন নামের এক ব্যবসায়ী তাকে উদ্ধার করে। শিশুটি তার নাম বলতে পারলেও ঠিকানা এবং কিভাবে এ জায়গায় এসেছে তা বলতে না পারায় ওই ব্যবসায়ী শিশুটিকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরদিন শনিবার বিকালে মুরাদনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ খবর পেয়ে শিশুটিকে দেখতে যান। শিশুটি অসুস্থ থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন, পরে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের মাধ্যমে রবিবার সকালে দেবিদ্বার সরকারি শিশু পরিবারে শিশুটিকে হস্তান্তর করেন।
আরো পড়ুন: ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ এবার বেশি, কার্যকরী ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে’
অপরদিকে, মুরাদনগর উপজেলার সাংবাদিক হাফেজ নজরুল বলেন, আমি ঘটনাটি শুনে শিশুটির সাথে যোগাযোগ করলে সে আমাকে জানায়, তার নাম মো. ইশান (৯), পিতা ফরহাদ আকন, মা জেসমিন আক্তার, তার বাড়ি পুরান ঢাকার কৈবত্যপাড়া সিরাজ ডাক্তারের ৩নং বাড়ি। তার বাবা দর্জির কাজ করে, তারা ২ ভাই ২ বোন, বড় বোন জান্নাত, ভাই হোসাইন, ছোট বোন খাদিজা। শনিবার দুপুরে হেল্প লাইন ৯৯৯এ বিষয়টি অবহিত করি। কবুতর পাড়া নামক স্থানের কথা বললে ৯৯৯ থেকে আমাকে দক্ষিণ কেরানিগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসারের সাথে কথা বলান। পরে কেরানীগঞ্জ থানার এসআই বাসির উদ্দীন ইশানের পরিবারদের জানান।
মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটির মা মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হলে বিকেলে শিশুটিকে মায়ের কাছে তুলে দেন নির্বাহী কর্মকর্তা। তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ছেলেকে খুঁজে পেয়ে জেসমিন আক্তার আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম কমল, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার কবির আহমেদ।
ইত্তেফাক/এমআই
