দুই সরকারি হাসপাতাল ঘুরেও মিলেনি অ্যান্টিভেনম, বাবার বুকেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন মুন্নির

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৫, ২২:০৪

মানিকগঞ্জের ঘিওরে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে মুন্নি আক্তার (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মুন্নির পরিবারের দাবি, শিশুটিকে সাপে কামড়ানোর পর সরকারি দুটি হাসপাতাল ঘুরেও মিলেনি অ্যান্টিভেনম (সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ)। চিকিৎসার অভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।

সবশেষ বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ভোররাতে নিহত মুন্নির মরদেহ নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়। এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যার পরে মুন্নিকে সাপে কামড় দিলে তাকে দ্রুত মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে সাপের বিষের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম না থাকায় শিশুটিকে পাঠানো হয় মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

স্বজনদের অভিযোগ, সেখানেও ছিল না অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ৯টার দিকে সাভারের নয়াডিঙ্গী এলাকায় শিশুটি তার বাবার বুকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। নিহত মুন্নি আক্তার মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের জাবরা (চরপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা সাগর বিশ্বাসের মেয়ে।

মুন্নির চাচা মো. এরশাদ বলেন, সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় ওর (মুন্নির) জ্ঞান ছিল। এমনকি মেডিকেল কলেজে নেয়ার পরও সে বেঁচে ছিল। কিন্তু দুইটি সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম না থাকার কারণে আমরা মুন্নিকে হারালাম। এটা সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতা।

মুন্নির বাবা সাগর বিশ্বাস বলেন, টিকার অভাবে আমার মেয়েটা আমার বুকে মারা গেল। এই বিচার আমি কার কাছে দিমু। আমার মতো পোড়া কপাল যেন আর কোনো বাপের না হয়।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, আমরা অনেক আগেই অ্যান্টিভেনম চেয়ে চাহিদা পাঠিয়েছি। তবে এখনও সরবরাহ আসেনি। সাধারণত সাপে কামড়ানো রোগীদের আমরা উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দিয়ে থাকি। শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা অ্যান্টিভেনমের চাহিদা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু কেন্দ্র থেকে আমাদের সাপ্লাই করা হয়নি।

ইত্তেফাক/এপি