বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোংলা বন্দর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ৪১ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিট মুনাফা করেছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার টাকা, যেখানে অর্জিত আয় হয়েছে ৬২ কোটি ১০ লাখ টাকা। ফলে নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। পাশাপাশি বন্দরের রাজস্ব আয়ও বেড়েছে ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ) কাজী আবেদ হোসেন, প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান, প্রধান হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার রাসেল আহমেদ খান, পরিচালক (ট্রাফিক) মো. কামাল হোসেন, বোর্ড ও গণসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. মাকরুজ্জামান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যকর উদ্যোগ, স্বল্প সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং পণ্য খালাসে গতি থাকায় দিন দিন বন্দর ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে আয়ে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাহাজ আগমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০০টি। বাস্তবে এসেছে ৮৩০টি, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৮৮ দশমিক ৮০ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের বিপরীতে হ্যান্ডেল হয়েছে ১০৪ দশমিক ১২ লাখ টন। কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে ২১ হাজার ৪৫৬ টিইইউজ, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার।
রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে মোংলা বন্দর। গত অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, অর্জিত হয়েছে ৩৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
কাজী আবেদ হোসেন জানান, মোংলা বন্দরে কোনো জাহাজজট নেই এবং গাড়ি আমদানিকারকদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা। বন্দরে বর্তমানে ৩৮টি সহায়ক জলযান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৭টি কনটেইনার ইয়ার্ড, টাগ বোট, পাইলট বোট, মুরিং বোট, সার্ভে বোট, ড্রেজার ইউনিট প্রভৃতি।
বর্তমানে মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি হচ্ছে খাদ্যশস্য, সার, গাড়ি, এলপিজি, সয়াবিন তেল, জ্বালানি তেল, কয়লা, ক্লিনকারসহ প্রায় ২৫ ধরনের পণ্য। আর রপ্তানি হচ্ছে গার্মেন্টস, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, মেশিনারি ও শুকনা মাছসহ নানা সামগ্রী।

