নালায় পড়ে শিশুর মৃত্যু: দায় খুঁজে পায়নি চসিক

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৫, ১২:৪৯

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে নালায় পড়ে তিন বছরের শিশু হুমায়রার মৃত্যুর ঘটনায় নিজেদের কোনো দায় খুঁজে পায়নি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি দায় চাপিয়েছে শিশুর পরিবার ও তার মায়ের কর্মস্থলের ওপর। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে তিন সদস্যের কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

এর আগে বুধবার বেলা ৩টার দিকে হালিশহরের আনন্দিপুর এলাকায় একটি উন্মুক্ত নালায় পড়ে যায় হুমায়রা। প্রায় এক ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। ওই দিনই সিটি করপোরেশন তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং এক কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

হুমায়রা ছিল হালিশহরের আবদুর রহমান ও আসমা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান। তার মা একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক, যা তাদের ভবনের সামনেই অবস্থিত। সেখানেই খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে হুমায়রা।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রবল বৃষ্টির সময় তীব্র স্রোত থাকা সত্ত্বেও মা শিশুর প্রতি নজর দেননি—এটাই মৃত্যুর মূল কারণ। তিনি আরও বলেন, ভবনটির ফটক খোলা ছিল এবং সেখানে কোনো নিরাপত্তারক্ষী ছিল না। কেয়ারটেকার দাবি করেছেন, ভুলবশত সেদিন ফটক খোলা ছিল। কমিটি আবাসিক এলাকায় পোশাক কারখানা পরিচালনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

নালা উন্মুক্ত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে কমান্ডার ইফতেখার বলেন, এটি সিটি করপোরেশনের নয়, বরং ব্যক্তিমালিকানাধীন নালা, যা পরে করপোরেশনের নালার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তার ভাষায়, সিটি করপোরেশনের অংশে স্ল্যাব ছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত অংশে ১৫ ইঞ্চি প্রশস্ত নালাটি উন্মুক্তই থাকে এবং এত ছোট নালায় স্ল্যাব বসানো হয় না।

দুর্ঘটনার পর কমিটি সাতটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—কর্মস্থলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভবন নির্মাণে ইমারত বিধিমালা মানা, ব্যক্তিমালিকানাধীন নালায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আবাসিক এলাকায় কারখানা পরিচালনায় আইনি বিধান বাস্তবায়ন।

তবে হুমায়রার ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। চট্টগ্রাম নগরে গত ছয় বছরে খাল ও নালায় পড়ে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল চাক্তাই খাল থেকে উদ্ধার হয় নিখোঁজ শিশু সেহরিশের মরদেহ। আগের দিন হিজড়া খালে পড়ে তলিয়ে গিয়েছিল সে। এসব ঘটনার পরেও চসিক বা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কেউই দায় স্বীকার করেনি। বরং একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইত্তেফাক/এনএন