শীতে চাই সুস্থ ত্বক

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৭

ডা. তানজিয়া নাহার তিনা

চলে এসেছে শীতের হিমশীতল আবহাওয়া। সেইসঙ্গে শীতের রুক্ষ ও শুষ্ক আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কমে যাচ্ছে ত্বকের আর্দ্রতা। তাই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল রাখতে প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন। কারণ শুষ্ক রুক্ষ ত্বকে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। শুধু মুখমণ্ডলের ত্বক নয়, প্রয়োজন হাত,পা এবং পুরো শরীরের ত্বকের যত্ন নেওয়া।

ত্বকের যত্নে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা বাঞ্ছনীয়। তাই শীতে প্রতিদিন গোসল করা উচিত। তবে দীর্ঘক্ষণ ধরে গোসল করা উচিত নয়। এতে দ্রুত ত্বক শুষ্ক হয়। শীতে গ্লিসারিনযুক্ত সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ত্বক সহজেই রুক্ষ হয়ে পড়বে না।

গোসলের পর কিংবা হাতমুখ ধোয়ার পর ত্বকে ভেজা ভাব থাকতে থাকতেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। হাত, পা, মুখ এবং সম্পূর্ণ শরীরে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। লোশন, ভ্যাসলিন, গ্লিসারিন, অলিভ অয়েল ইত্যাদি ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। শীতে লোশনের চেয়ে গ্লিসারিন কিংবা অলিভ অয়েল ত্বকের আর্দ্রতা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ঠোঁট শরীরের নাজুক অংশ। শীতে ঠোঁটের যত্নে ভ্যাসলিন বা গ্লিসারিনসমৃদ্ধ লিপবাম ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ঠোঁট ফাটার সমস্যা দূর হবে। বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো কিংবা ঠোঁটের চামড়া তুলে ফেলা ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকর।

শীতে চুলে খুশকির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় বেশি। তাই নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। সপ্তাহে এক থেকে দুই বার হট অয়েল ম্যাসাজ নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া কিটোকোনাজল শ্যাম্পু খুশকি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

রোদে বের হবার পূর্বে সানস্ক্রিন কিংবা ছাতা ব্যবহার করা উচিত। এ ছাড়া ত্বকের শুষ্কতা এড়াতে নিয়মিত প্রচুর পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি মৌসুমি ফলমূল ও শাকসবজি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। শীতের শাকসবজি প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় তা ত্বক ও চুলের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।

লেখক : চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ