ফেনীতে এখনো পানিবন্দি প্রায় ৭ হাজার পরিবার

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৫, ১৫:৪৪

অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার পাঁচটি উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৬ হাজার ৯৫০টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৯ হাজার ৭০০ জন।

সোমবার (১৪ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র (এনডিআরসিসি) থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুহুরী, কুহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পরশুরাম ও ফুলগাজীসহ জেলার মোট ৩৬টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে পড়ে। এতে পরশুরাম উপজেলার ৪৪টি, ফুলগাজীর ৬৭টি, ছাগলনাইয়ার ১৫টি, ফেনী সদর উপজেলার ৯টি এবং দাগনভূঞার ২টি—মোট ১৩৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বর্তমানে ১৩০টি গ্রামে পানি নামলেও কিছু এলাকা এখনো জলাবদ্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে।

বর্তমানে জেলার সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের অধিকাংশই বাড়ি ফিরেছেন। এখনো পরশুরাম, ফুলগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলার ৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮৮টি পরিবারের ৩৬৫ জন অবস্থান করছেন।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ

ফেনী জেলা প্রশাসন বন্যা মোকাবিলায় ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী, দাগনভুঞা ও ফেনী সদর উপজেলায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ ও ১৬০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এর পাশাপাশি ২ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলার ৫টি উপজেলায় ২৩০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও পরশুরাম উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে ৭২টি লাইফ জ্যাকেট, ১৬টি গামবুট ও ৩৯টি রেইনকোট সরবরাহ করা হয়েছে। ফেনী সদর, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় মোট ১০টি ফাইবার বোট সরবরাহ করা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজনকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়ায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কাজ করছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নৌযানসহ ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করছে।

ইত্তেফাক/আইএ