ঢাকার কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গার তীরে স্থাপিত একটি বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্রের বিরুদ্ধে পরিবেশদূষণের অভিযোগ উঠেছে। এপিআর এনার্জির ঐ ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুেকন্দ্রটির শব্দ ও বায়ুদূষণে স্থানীয়দের স্বাস্থ্য সমস্যা এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন ঘটছে। দূষণের এ অভিযোগ এনে বিদ্যুত্ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে খোদ সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। একইসঙ্গে ঐ কেন্দ্রটি স্থাপনের জন্য ইজারা দেওয়া জমি ফেরত চায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
গত ৭ জুলাই বিদ্যুত্ বিভাগে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠায় নৌমন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়, কেরানীগঞ্জে পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালের নিকটবর্তী স্থানে স্থাপিত এপিআর এনার্জির বিদ্যুেকন্দ্রের জেনারেটরগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া, উচ্চ তাপমাত্রা ও শব্দদূষণ হচ্ছে। এ কারণে ঐ এলাকায় থাকা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস এবং সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকেই শ্বাসকষ্ট ও ত্বকের নানান সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএ এবং বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, নৌমন্ত্রণালয়ের জমি ইজারা নিয়ে বেসরকারি কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছিল। গত বছরের শেষদিকে তেলচালিত কেন্দ্রটি চালু হয়। বেসরকারি বিদ্যুত্ উত্পাদক (আইপিপি) হিসেবে ৫ বছর মেয়াদে কেন্দ্রটি পরিচালনা করবে বলে পিডিবির সঙ্গে চুক্তি সই করে এপিআর এনার্জি।
পানগাঁও টার্মিনালের কর্মকর্তাদের আবাসস্থল (ডরমিটরি) এবং টার্মিনাল সম্প্রসারণের জন্য রাখা জায়গায় কেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দূষণের কারণে ঐ এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থাকতে চাচ্ছেন না। তাই কেন্দ্রটির দূষণ দূর করা না গেলে তা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুত্ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. আহমাদ কায়কাউস বরাবর নৌমন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আবদুস ছাত্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুেকন্দ্রের জায়গা বিআইডব্লিউটিএর কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। জায়গাটি বুঝিয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রটির জেনারেটরগুলো হতে নির্গত ধোঁয়া, তাপমাত্রা ও শব্দদূষণ দূর করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেছে নৌমন্ত্রণালয়।
বিদ্যুত্ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, নৌমন্ত্রণালয়ের অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুততার ভিত্তিতে ঐ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ গত বছরের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়। পরিবেশদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কেন্দ্র মালিকরা বাধ্য। ঐ কর্মকর্তা আরো জানান, চট্টগ্রামে হালদা নদ দূষণের দায়ে পিডিবির ১০০ মেগাওয়াটের পিকিং বিদ্যুেকন্দ্রকে গত সপ্তাহে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বড়ো বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা চিন্তিত রয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানীতেই অপেক্ষাকৃত ছোটো কেন্দ্রের দূষণ কৌশলগতভাবে বেশি আশঙ্কাজনক। তাই কেরানীগঞ্জের ঐ কেন্দ্রটিকে এখন দূষণ কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার পরামর্শ দেওয়া হবে। তা সম্ভব না হলে কেন্দ্রটি বন্ধও করে দেওয়া হতে পারে।
