ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ ও চিকিত্সা এই তিনে মিলে আমাদের ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে হবে। তাছাড়া এ বছর ডেঙ্গুর ধরন বদলে যাওয়ায় জ্বর হলেই চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল বুধবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স হলে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারের আগে ডেঙ্গু জ্বর সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে ‘ডেঙ্গু জ্বরের চিকিত্সা, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের উপায়’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বর হয়ত বা নির্মূল করা যাবে না, এর কোনো ভ্যাকসিন কিংবা কার্যকরী ওষুধও আবিষ্কৃত হয়নি। ডেঙ্গু জ্বরের বাহক মশা আমাদের দেশে আগেও ছিল, এখনো আছে, মশা প্রজননের এবং বংশবৃদ্ধির পরিবেশও আছে। তাই ডেঙ্গু জ্বর ভবিষ্যতেও থাকবে। একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর হাত থেকে মুক্তি সম্ভব।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, অনেক রোগেই মানুষ মারা যাচ্ছে। ডেঙ্গু হলেও মানুষ মারা যাবে—এমন আতঙ্ক সমাজে সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে কেউ যেন ভয় না পায়। দুই একজন যে মারা যাবে না তা হয় না। তবে, এখন যে জ্বরই হোক, তাতে দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। এতে করে দ্রুত ডেঙ্গু শনাক্ত হলে অঘটনগুলো হবে না। মশা নিমূর্ল না করতে পারলেও কমাতে হবে। তিনি বলেন, দুই সিটি করপোরেশনকে সমন্বয় করে একসঙ্গে মশার ওধুষ ছিটাতে হবে। নইলে উত্তর সিটিতে মশার ওষুধ ছিটালে মশা দক্ষিণ সিটিতে উড়ে যাবে।
প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউর রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক। তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় এবং আতঙ্কের কারণ হলো, এ বছর ডেঙ্গু জ্বরের ধরন ও লক্ষণে বেশকিছু পরিবর্তন এসেছে। ফলে যেসব রোগী নিজেরাই ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত করতে পারতেন, লক্ষণ পরিবর্তন হওয়ায় রোগীরা তা বুঝতে পারেন না। ফলে জ্বর হলে রোগীরা চিকিত্সকের কাছেও যেতে দেরি করছেন। তিনি বলেন, এ বছর যারা মারা গেছেন তারা কিন্তু সামান্য জ্বর মনে করে অবহেলা করেছেন। সেমিনারে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, ডা. বদিউজ্জামান ভূইয়া, ডা. রোকয়া সুলতানা প্রমুখ।
