সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ সুইদায় দেশটির সরকারি বাহিনীর ওপর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ ঘটনায় বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই হামলা চালিয়েছে সিরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলকে অসামরিক এলাকা হিসেবে বজায় রাখার এবং সেখানে বসবাসরত সংখ্যালঘু দ্রুজ সম্প্রদায়কে রক্ষার লক্ষ্যেই।
গত সপ্তাহ থেকেই সুইদায় দ্রুজ মিলিশিয়া ও সুন্নি বেদুইন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বহু প্রাণহানি ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী সেখানে হস্তক্ষেপ করলে তাদের সঙ্গে দ্রুজদেরও সংঘর্ষ শুরু হয়।
এই উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার (১৪ জুলাই) ইসরায়েল প্রথম দফা হামলা চালায়। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফা হামলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনাস্থল থেকে রয়টার্সের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, তারা ড্রোনের শব্দ ও অন্তত চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ট্যাংক টেনে নিতে দেখা গেছে। রাস্তায় পড়ে ছিল তিনটি মৃতদেহও।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় গুলি ছোড়ার শব্দ ও ধ্বংসের চিত্র ছড়িয়ে পড়েছে।
সিরিয়ার বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা ক্ষমতায় আসার পর থেকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নানা চাপে পড়েছেন। সাম্প্রতিক এই সংঘাত দেশটির পুরনো সাম্প্রদায়িক বিভাজন এবং ইসলামপন্থিদের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সংখ্যালঘুদের অবিশ্বাসকেই নতুন করে সামনে এনেছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, 'সুইদায় ইসরায়েলের এই হামলা ও তার পরিণতির সম্পূর্ণ দায় তাদেরই নিতে হবে।' তারা সকল নাগরিক, বিশেষ করে দ্রুজ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইসরায়েলি হামলায় সিরীয় সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তর জানিয়েছে, কেউ যদি এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপরাধ করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত টম বারাক বলেন, 'শান্তি ও সংহতির লক্ষ্যে' সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে সিরিয়ায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, ইসরায়েল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে হামলা বন্ধ করেছে বলে জানিয়েছে।
তবে এটিই প্রথম নয়—এর আগেও ইসরায়েল নিজেদের সীমান্ত রক্ষা এবং দ্রুজদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে সিরিয়ায় বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে।
সিরিয়ার প্রভাবশালী দ্রুজ নেতা শেখ হিকমত আল-হাজরি এক বিবৃতিতে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে দ্রুজ যোদ্ধাদের ‘বর্বর হামলা’ প্রতিরোধে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
এই ঘটনার পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সেনাবাহিনীকে সুইদায় সিরীয় সরকারি বাহিনীর অবস্থানে এবং তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রভাণ্ডারে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন।
তারা বলেন, 'ইসরায়েলের দ্রুজ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সিরিয়ার দ্রুজদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। আমরা তাদের রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্ত অঞ্চলের অসামরিকীকরণ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।'
