ব্রিটেনে বিভাজনের রাজনীতির আরেক দফা জয়

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ২১:০১

ইহা পূর্ব হইতে অনুমেয় ছিল। দলীয় সদস্যদের ভোটে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হইলেন বরিস জনসন। ইহার ভিতর দিয়া বিভাজনের রাজনীতির আরেক দফা জয় হইল ব্রিটেনে। তিনি ব্রেক্সিট-বিপাকে নাকাল হওয়া থেরেসা মে-র স্থলাভিষিক্ত হইলেন। জনসন ইতিপূর্বে লন্ডন মেয়র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করিয়াছেন। থেরেসা মে-র বিদায় লইবার ঘোষণার পরে ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচনে জনসন সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের ৬৬ শতাংশ লাভে সমর্থ হইয়াছেন। সর্বমোট পাঁচ দফা ভোটের মধ্যে শেষ দফা পর্যন্ত তাঁহার সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিয়াছেন মে মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট। ভোটের ফলাফল ঘোষণা-পরবর্তী ভাষণে জনসন দলের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানাইয়াছেন এবং পরবর্তী নির্বাচনে জনমতে অগ্রগামী বিরোধী দল লেবার পার্টিকে পরাজিত করিবার প্রত্যয় ব্যক্ত করিয়াছেন। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) হইতে বাহির হইয়া আসা তথা ব্রেক্সিট সম্পন্ন করিবার ঘোষণাও দিয়াছেন তিনি। পর্যবেক্ষকদের বেশিরভাগ অবশ্য মনে করিতেছেন যে জনসনের ঐক্যের ডাক এবং ব্রেক্সিট-যাত্রা খুব একটা মসৃণ হইবে না। ব্রেক্সিট কোন্দলে পড়িয়া কেবল মে যে ক্ষমতা হারাইয়াছেন তাহা নহে, বরং গোটা দলের মধ্যে ব্রেক্সিটের ধরন লইয়া গোটা কয়েক উপদল প্রকাশ্য হইয়া পড়িয়াছে। এইক্ষেত্রে ইইউ-এর সহিত প্রয়োজনে কোনো ধরনের বোঝাপড়া ব্যতিরেকেই ব্রেক্সিট ঘটাইবার ঘোষণা দিয়া শেষাবধি প্রধানমন্ত্রী হইয়াছেন জনসন। কিন্তু এইক্ষেত্রে মনে রাখিতে হইবে যে জনসনের মতের বিরুদ্ধবাদীদের সংখ্যাও দলের ভিতরে নেহাত কম নহে। ইহাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাহারা ধারে-ভারে জনসন অপেক্ষা কম কাটেন না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হইতেছে যে দলের নেতা পালটাইলেও ব্রেক্সিট লইয়া কনজারভেটিভ পার্টির স্বস্তির কোনো কারণ ঘটে নাই। জনসনের রাজনীতির ধরনটিও প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বড়ো একটি চ্যালেঞ্জ আসিবে বলিয়া মনে হইতেছে। তিনি এমন একজন রাজনীতিক যাঁহার পক্ষে ও বিপক্ষে বলিতে গেলে সমসংখ্যক মানুষ রহিয়াছেন। জনসন আদতে রাজনীতিক হিসাবে ব্রিটেনের উঁচুতলার মানুষের প্রতিনিধি। কিন্তু নানান সময়ে নানান রকমের লোকপ্রিয়, বিশেষ করিয়া অভিবাসন-বিরোধী কথাবার্তা বলিয়া মূলধারার সাধারণ ইংরেজদের মধ্যে তিনি একটি শক্ত জমিন তৈরিতে সক্ষম হইয়াছেন। কৃষ্ণাঙ্গ, মুসলিম সম্প্রদায়, মুসলিম নারীর পোশাকসহ নানাবিধ বিষয়ে সময়ে-সময়ে অনেক আপত্তিকর কথা বলিয়াছেন জনসন। তাহাতে বিতর্ক হইয়াছে, সমালোচনা হইয়াছে। আবার এইসব কথাবার্তার জন্য তিনি ঘৃণাবাদীদের সমর্থনও পাইয়াছেন। এতদিন যেমন-তেমন, এইবার অবশ্য জনসনকে প্রথম সত্যিকারের পরীক্ষার সম্মুখীন হইতে হইবে ইইউ-এর দিক হইতে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোটের ফল আসিবার কয়েক মিনিটের মধ্যে জনসনের ব্রেক্সিট-সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করিয়াছে ইইউ। তিনি অবশ্য ইহার কাছাকাছি সময়েই ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিনন্দনবার্তা পাইয়াছেন। বিভাজনের রাজনীতিক বরিস জনসনের সামনের দিনগুলি কেমন যায় তাহাই এখন দেখিবার বিষয়।