২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো সুনামগঞ্জ-১ আসনেও রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। বিভিন্ন কর্মসূচি, সামাজিক অনুষ্ঠান ও ডিজিটাল মাধ্যমে বিশেষত ফেসবুকে তৎপরতা বাড়িয়েছেন তারা। নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপক ব্যানার-ফেস্টুন, কর্মী সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্ভাব্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর নির্বাচন-কালীন সময়সীমা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় গতি এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর ফলে মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের প্রচারণা আরও জোরদার হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনটি হাওরবেষ্টিত ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। এই বৃহৎ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ২৭ হাজার ৭০১ জন, পুরুষ ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৮৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।
বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীক পেতে সাতজনেরও বেশি মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন। যদিও দলীয়ভাবে এখনো কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। আলোচনায় রয়েছেন: সাবেক ছাত্রনেতা ও তাহিরপুরের সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল; কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও তাহিরপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হক; ধর্মপাশার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল মোতালেব খান; সাবেক এমপি নজির হোসেনের স্ত্রী ও কৃষি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা সালমা নজির; কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান; যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দী লিটন; সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা সোহেল আহমেদ
জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান, যিনি তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের বাসিন্দা।
বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। বিগত দিনে দলের জন্য যে ত্যাগ ও অবদান রেখেছি, আশা করি দল তা মূল্যায়ন করবে। তার নেতৃত্বে আয়োজিত সভা-সমাবেশে দলীয় কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
আনিসুল হক জানান, বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। আশা করি, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়ে মূল্যায়ন করবে।
আব্দুল মোতালেব খান নিজ উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই আসনে তার ভাগ্নে মাহবুবুর রহমানও মনোনয়নপ্রত্যাশী। মাহবুব বলেন, গত ১৫ বছর ধরে দমন-পীড়নের মধ্যেও মাঠে ছিলাম। এবার তরুণদের মূল্যায়ন হবে—এই আশাতেই আছি।
সালমা নজির বলেন, দল ক্লিন ইমেজ ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে গুরুত্ব দেবে—এই বিশ্বাসেই আমি মাঠে নেমেছি।
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দী লিটন সম্প্রতি দেশে ফিরে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
সোহেল আহমেদ বলেন, আমি বিশ্বাস করি, দল এবার তরুণদের মূল্যায়ন করবে। তাই আমিও মনোনয়নের প্রত্যাশী।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী তোফায়েল আহমদ খান বলেন, ভোটকেন্দ্র ও গ্রাম কমিটির কাজ ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি মসজিদ-মাদ্রাসা ও গ্রামের নানা অনুষ্ঠানে গিয়ে দলের প্রতীক 'দাঁড়িপাল্লা'-এর পক্ষে ভোট চাচ্ছেন।
সূত্র মতে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এখন তাদের নিজ নিজ কৌশল বাস্তবায়নে মনোযোগী। সুনামগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
