দুই দিনের বৃষ্টিতে অচল শেরপুর শহর 

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৫, ১৮:১৪

অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সময়মতো ড্রেন পরিস্কার না করা এবং অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি-ঘর নির্মাণের কারণে মাঝারি বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বগুড়ার শেরপুর পৌর শহর ও আশপাশের গ্রামীণ এলাকায়। এতে করে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে পানি, নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র ও গবাদি পশুর খাবার। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

মঙ্গলবার ও বুধবারের মাঝারি বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা এবং শহরতলির শাহবন্দেগী ও মির্জাপুর ইউনিয়নের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো হাঁটুসমান পানিতে ডুবে গেছে। কোনো কোনো জায়গায় মানুষকে ভ্যান বা নৌকায় চলাচল করতে দেখা গেছে।
রাস্তা থেকে ঘরবাড়ি—সবখানে পানি

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উপরেও হাটুপানি জমেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত পথ না থাকায় বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে জমে গেছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য।

মির্জাপুর ইউনিয়নের দড়িমুকুন্দ, রামচরণ মুকুন্দ, ব্র্যাক বটতলা, আড়ংশাইল ও শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা ও সাধুবাড়ীর বাসিন্দারা জানান, তাদের বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে রান্না-বান্না, গবাদি পশু রাখাসহ দৈনন্দিন সব কাজে বিঘ্ন ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল, হানিফ, মোবারক ও রমজান আলী জানান, ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় পানিনিষ্কাশনের জন্য সেচযন্ত্র বসিয়ে পানি তুলতে হচ্ছে। তবু পানি বের হচ্ছে না।

ব্র্যাক বটতলার বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, গরু, ছাগল, ভেড়া নিয়ে বিপদে পড়েছি। পানি বাড়ছে, ঘর মাটির হওয়ায় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা। পশুগুলো বের করাও যাচ্ছে না, রাখার জায়গাও নেই।

তিনি আরও জানান, পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং নিচু জমির ধান ও সবজি ক্ষেতে পানি উঠে গেছে।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. আশিক খান বলেন, বর্ষার আগেই প্রধান ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময়ের ভারি বৃষ্টির কারণে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয়েছে। আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় রাস্তা ভেঙে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, সেখানে মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি