বন্যাকবলিত কুড়িগ্রাম জেলা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ২১:০৪

যে-সব এলাকা বন্যাকবলিত শুধু সেসব এলাকার মানুষই জানে দুর্যোগ আর দুর্ভোগ কতটা ভয়াবহ। এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম কুড়িগ্রাম জেলা। দারিদ্র্যের শীর্ষে যার অবস্থান। যেখানে দারিদ্র্যের হার ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ। ১৯৮৮ সালের বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলা ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল, তখন বন্যার পানি বিপত্সীমা ছিল ১১২ সেন্টিমিটার  কিন্তু এ বছর ২০১৯ সালে প্রায় ৩১ বছর পর ১৯৮৮ সালের বন্যার রেকর্ড ভেঙে দিয়ে আবারও ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন কুড়িগ্রাম জেলার মানুষগুলো। এবারের বন্যার পানি বিপত্সীমার ১৫০ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে অথচ গত ২২ জুলাই পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের জারিকৃত বন্যাকবলিতদের স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত আদেশে বন্যাকবলিত ১৫টি জেলার নাম থাকলেও নাম ছিল না বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কুড়িগ্রাম জেলার। এই নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়, তারপর ২৩ জুলাই একই স্মারক ও তারিখে সংশোধিত একটি অফিস আদেশ প্রতিস্থাপন করে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। আমার কথা হলো-কেন এই বৈষম্য? কুড়িগ্রাম কি জেলা নয়? কুড়িগ্রাম জেলার মানুষগুলো কি দেশের নাগরিক নয়?

কুড়িগ্রাম জেলার মানুষগুলোর কি কোনো মৌলিক অধিকার নেই? কুড়িগ্রাম জেলা কেন এই বৈষম্যের শিকার? কুড়িগ্রাম জেলা কেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নজরে পড়ল না?

এসব প্রশ্ন বারবার মনে আসছিল; কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে ২৩ জুলাই পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর  সংশোধিত অফিস আদেশ প্রতিস্থাপন করায় বুকটা ভরে গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো হয়তো কিছু না কিছু পাবে—এই ভরসায়।

n লেখক :শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ,

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ