আফগানিস্তানের দুর্গম অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকশ ফাঁড়ি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সেদেশের পুলিশ। তালেবান বিদ্রোহীদের সঙ্গে যখন শান্তি আলোচনা চলছিল ঠিক এমন সময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানালো দেশটি।
আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুর্গম অঞ্চলগুলোতে ঐ ফাঁড়িগুলোর অবস্থান হওয়ায় খুব সহজেই তালেবানের টার্গেটে পরিণত হয় তারা। এ ধরনের হামলায় এরই মধ্যে কয়েক হাজার পুলিশ নিহত হয়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কম নয়। গত বছর আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের পর পুলিশের এমন ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে দেশজুড়ে বিস্তৃত ৬ হাজার ৪৫২টি ফাঁড়ি ও চেকপয়েন্টের নিরাপত্তা ঝুঁকি খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়। ঐ মূল্যায়নেই দুর্গম এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ফাঁড়িগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। মার্কিন বিশেষজ্ঞরাও দীর্ঘদিন ধরে আফগান কমান্ডারদের দুর্গম এলাকার ঐ ফাঁড়িগুলো ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র শক্তি বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন। ১৭টি প্রদেশের চিহ্নিত ২১০টি ঝুঁকিপূর্ণ পুলিশ ফাঁড়ি এরই মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আরো প্রায় ২০০টি বন্ধের অপেক্ষায় আছে বলে আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপারেশন ও প্ল্যানিং বিভাগের মহাপরিচালক আবদুল মোকিম আবদুলরাহিমজাই জানিয়েছেন। “ঐ এলাকাগুলো আমরা ছেড়ে আসছি না, সেগুলো এরপরও আমাদের কড়া নজরদারিতেই থাকবে। নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখলেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেবো,” বলেছেন তিনি।
সরকার দেশজুড়ে ছড়ানো-ছিটানো ছোটো ছোটো সেনাচৌকিগুলোকে একত্রিত করে বড়ো ঘাঁটি বানানোরও পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফাওয়াদ আমান। বন্ধের জন্য চিহ্নিত দুইশ ফাঁড়িতে গত তিন বছরে প্রায় ৫ হাজার হামলা হয়েছে—আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নথিতে এমনটাই লেখা রয়েছে বলে দেখেছে রয়টার্স। এসব হামলায় ২ হাজার ২৬০ জন পুলিশ সদস্য নিহত এবং সাড়ে ৩ হাজারের বেশি আহতও হয়েছে।
তিন বছরে কেবল হেলমান্দের একটি দুর্গম ফাঁড়িতেই কয়েক ডজন হামলায় নিহত হয়েছে ৩০০রও বেশি পুলিশ। তালেবানের সঙ্গে যুদ্ধে ২০১৫ সালের পর থেকে সেনা-পুলিশের ২৮ হাজার সদস্য নিহত হয়েছে বলে গতবছর আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি জানিয়েছিলেন।
