সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের সুনাম ক্ষুণ্ণ ও পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল হক সজীব এ জিডি (নং–৫৮২) করেন।
জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি ও ‘মাদার অব ফিশারিজ’ হিসেবে পরিচিত। হাওরে পর্যটকদের আনাগোনায় স্থানীয় তিন উপজেলার মানুষজনের কর্মসংস্থান বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নও হচ্ছে।
গত ১০ জুলাই বেলা ১১টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করার সময় দেখা যায়, গত ৯ জুলাই Mohammad Iqbal (https://www.facebook.com/Mohammadiqbal.bd) নামক ফেসবুক পেজ থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরকে নিয়ে ১ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন।
ভিডিওতে তিনি বলেন, প্রতিদিন ৪০টি হাউসবোটে অনুমান ১০০০ জন পর্যটক টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যায়। ১০০০ জন লোক যদি তিন দিন হাওরে থাকে এবং প্রতিদিন দুইবার করে অর্থাৎ ১০০০ জনে তিন দিনে ৬০০০ বার টাঙ্গুয়ার হাওরে পায়খানা-প্রস্রাব করে।
হাওরে আসা পর্যটকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, যদি কেউ টাঙ্গুয়ার হাওরে যায় তাহলে হাওরের পানিতে থাকা পায়খানা-প্রস্রাব গায়ে মাখিয়ে নিয়ে আসবে, পায়খানামিশ্রিত পানি মুখে নিয়ে কুলি করবে, সুপ তৈরি করে খেতে হবে। সব শেষে তিনি পর্যটকদের টাঙ্গুয়ার হাওরে না যাওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করেন।
জিডিতে নাজমুল হক সজীব আরও উল্লেখ করেন—ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ছড়িয়ে যায়, এতে সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান টাঙ্গুয়ার হাওরাঞ্চলের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। ভিডিও প্রচারের কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের আগমন কমে যাওয়া ও জনগণের আয়ের উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ধর্মপাশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এনামুল হক ঢাকা পোস্টকে জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ স্থান। হাওরের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার বিষয়ে গতকাল (বৃহস্পতিবার) জিডি হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

