মায়ের ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখিয়ে মেয়েকে নিপীড়ন, প্রতিশোধ নিতে গলাকেটে হত্যা

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৫, ১৪:৫৩

কুমিল্লার তিতাসে সড়কের পাশ থেকে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জোর করে মা-মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক রাখায় ইমতিয়াজ মান্নাকে (২২) গলা কেটে হত্যার করা হয় বলে জানিয়েছে আসামিরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সারোয়ার আলম। এর আগে এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আটকরা হলেন- বরিশালের কাজির হাট উপজেলার ছৈয়মতকতা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম মোল্লার ছেলে মো. সোহেল ইসলাম (৪০), তার ছেলে মো. শাহিন ইসলাম (১৯) ও সোহেল ইসলামের মামা হানিফ হাওলাদার (৬১)।

এসপি মোহাম্মদ সারোয়ার আলম জানান, গত ১২ জুলাই তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গুলবাগ এলাকায় সড়কের পাশে গাছের নিচে গলাকাটা একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে জানা যায় নিহত ইমতিয়াজ ওরফে মান্না বরিশালের কাজীরহাট থানার পূর্ব রতনপুর এলাকার দুলাল হাওলাদারের ছেলে। এ ঘটনায় পিবিআই ছায়াতদন্ত শুরু করে।

পরের দিন ১৩ জুলাই নিহত ইমতিয়াজ ওরফে মান্নার বাবা দুলাল হাওলাদার বাদী হয়ে তিতাস থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্তে সক্ষম হয় পিবিআই। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার ভোর রাতে রাজধানীর কামরাঙ্গীচর থানার মুন্সিহাটি এলাকা থেকে মূল ঘাতক সোহেল ও তার ছেলে শাহীনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার হত্যায় অংশ নেওয়া আবু হানিফ হাওলাদারকে রাজধানীর রাজাবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতকরা জানান, হত্যাকারী সোহেল হোসেন গ্রামের বাড়ি বরিশালে তার স্ত্রী আর মেয়েকে রেখে ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় গাড়ি চালানোর চাকরি করতেন। গ্রামের বাড়ি গিয়ে সোহেল জানতে পারেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে ইমতিয়াজ ওরফে মান্নার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের কথা। পরবর্তীতে সোহেল তার মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়েকে (১৫) বরিশালে দাদীর কাছে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। পরে ইমতিয়াজ ওরফে মান্না তার বাড়িতে রেখে আসা মেয়েকে তার মায়ের সঙ্গের বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে মেয়েকেও শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেন। এ ঘটনার কথাও সোহেল জেনে যান।

পরে প্রথমে স্ত্রী এবং পরে মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি জেনে ইমতিয়াজ ওরফে মান্নাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সোহেল, তার ছেলে শাহীন এবং মামা হানিফ হাওলাদার। হত্যার দিন একটি লাল মাইক্রোবাসে করে ইমতিয়াজ ওরফে মান্নাকে বরিশাল থেকে সিলেটে বেড়াতে যাওয়ার প্রলোভন দেখান হত্যাকারীরা। পরে সিলেট না গিয়ে কুমিল্লার তিতাসের জিয়ারকান্দি এলাকায় আসেন তারা। এ সময় গাড়িতে থাকা অবস্থায় ইমতিয়াজ ওরফে মান্নাকে শ্বাসরোধ করেন তিনজন।

পরে মৃত্যু নিশ্চিত হতে রাস্তায় ফেলে গলা কেটে ছুরিটি মরদেহের পাশে রেখে পালিয়ে যান ঘাতকরা।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, ঘটনায় জড়িত এবং গ্রেপ্তার করা তিনজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয়েছে। তিন আসামিই আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত চলমান। ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কুমিল্লা কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এপি