দিরাইয়ে ফুটপাত দখল, উচ্ছেদেও মিলছে না সমাধান

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৫, ১৮:৫৯

সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরে ফুটপাত দখল এখন আর কোনো সাময়িক সমস্যা নয়—এটি পরিণত হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি একটি জনদুর্ভোগে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

পৌর শহরের প্রধান সড়ক, থানা রোড, মধ্যবাজার ও হাইস্কুল রোডের অধিকাংশ ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে দোকানপাট ও হকারদের অস্থায়ী স্টল। ফলে সাধারণ পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ধরে চলাফেরা করছেন, যা যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের চলাচল একপ্রকার দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। ওই সময় ফুটপাতে দাঁড়ানোরও জায়গা থাকে না। পথচারীদের মূল সড়কে নামতে হয়, যেখানে সবসময় যানবাহনের ভিড় লেগে থাকে। সামান্য অসাবধানতাই ঘটাচ্ছে দুর্ঘটনা, আর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন শিশু ও বয়স্করা।

একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানিয়েছেন, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে তারা চরম ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে চলাচল করে। থানা পয়েন্ট এলাকায় স্কুলের সামনে ফুটপাতের এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে চলন্ত গাড়ির পাশ দিয়ে হাঁটছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বয়স্ক মানুষ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থদের জন্য এই পরিস্থিতি যেন আরও ভয়াবহ। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ও ধীরগতির মানুষদের জন্য ফুটপাত কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

অবস্থা আরও নাজুক হয়ে উঠছে জরুরি সেবার জন্য। দিরাই ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অভিযোগ, ফুটপাত দখলের কারণে সড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে রোগী পরিবহন কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি সেবায় দেরি হচ্ছে, যার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা, দোকান উচ্ছেদ ও মালামাল জব্দ করা হয়েছে বহুবার। তবে অভিযান শেষ হলেই পুনরায় আগের চিত্র ফিরে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক ব্যবসায়ী নিজের দোকানের সামনের ফুটপাত দখল করে রেখেছেন এবং কেউ কেউ তা ভাড়াও দিয়ে থাকেন। এতে করে সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম।

এ বিষয়ে দিরাই পৌর প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ সূত্রধর বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এটি শুধুমাত্র প্রশাসনের একার পক্ষে সামাল দেওয়া কঠিন। বিষয়টি সামাজিক সচেতনতা ও ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছার সঙ্গে জড়িত। ফুটপাত দখলমুক্ত করে হকারদের পুনর্বাসনের একটি পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

এদিকে, স্থানীয় নাগরিকদের অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তাদের দাবি, হকারদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

দিরাই পৌর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, দিরাই শহরের মতো ক্রমবর্ধমান শহরগুলোতে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবেই এমন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শুধু উচ্ছেদ নয়, প্রয়োজন টেকসই ও মানবিক সমাধান।”

স্থানীয়দের মতে, এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে দিরাই পৌর শহরে নাগরিক জীবনের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে এ সমস্যার পরিণতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

ইত্তেফাক/এএইচপি