শ্রীলঙ্কা সফরের ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে হারের পর শেষ পর্যন্ত একটু স্বস্তি এনে দেয় স্বাগতিকদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। দীর্ঘ সফর শেষে বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। তবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবার সুযোগ নেই টাইগারদের সামনে। কারণ আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের আরেকটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সবগুলো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
আর এই সিরিজকে ঘিরে গতকাল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল দলের অনুশীলন ক্যাম্প, তবে টিম ম্যানেজমেন্ট বিশ্রামের কথা বিবেচনা করে সেটি বাতিল করে। তবে অনুশীলন না করেও চুপচাপ বসে থাকেননি দলের ব্যাটার নাঈম শেখ। দুপুর নাগাদ মিরপুরের একাডেমি মাঠে থ্রোয়ারদের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যাটিং অনুশীলন করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। পরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের একা অনুশীলন করা নিয়ে তিনি বলেন, 'সত্যি বলতে এটা একদমই ব্যক্তিগত অনুশীলন ছিল। যখন দলীয় প্রস্তুতির কথা হয়, সেটা আলাদা। আমি নিজে থেকে ট্রেনিং করতে এসেছি, কারণ মনে হয়েছে এটা আমার দরকার ছিল।'
শ্রীলঙ্কা সফরের সাদা বলের দুই সিরিজেই ছিলেন নাঈম শেখ। তবে মূল একাদশে জায়গা পান মাত্র একটি ম্যাচে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলেছিলেন প্রথম ম্যাচে, তবে স্বাভাবিক পজিশন ওপেনিংয়ে নয়, খেলেছিলেন চতুর্থ নম্বরে। এর ব্যাখ্যায় নাঈম বলেন, 'আসলে আমার খেলার কথা ছিল না। জাকের আলী ইনজুরড ছিল, কোচের সঙ্গে আলোচনা করে আমাকে একাদশে নেওয়া হয়। আমার পাঁচ নম্বরে নামার কথা থাকলেও জাকেরের ইনজুরির কারণে আমাকে চারে খেলতে হয়। সত্যি বলতে, এভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। আমি সবসময় ওপেনিংয়ের জন্যই নিজেকে প্রস্তুত রাখি। এখনো সেই অনুযায়ীই কাজ করছি। পাশাপাশি চার বা পাঁচ নম্বর ব্যাটিং নিয়েও মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।'
এর আগে গত মে মাসেই পাকিস্তান সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল টাইগাররা। তবে এবার ঘরের মাঠে সেই স্মৃতি পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চায় দল। সেই লক্ষ্যে কাজে লাগাতে চান সবশেষ শ্রীলঙ্কা থেকে নিয়ে আসা সুখকর স্মৃতিকে। নাঈম বলেন, 'আমরা শ্রীলঙ্কা থেকে একটা জয় নিয়ে ফিরেছি। চেষ্টা করবো সেই মোমেন্টামটা ধরে রাখতে। মিরপুরের কন্ডিশন আমাদের পরিচিত, যদিও এখনো উইকেট দেখিনি। তবে দলের অবস্থা খুব ভালো, সবাই ফিট আছে। আগের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে থাকার সুযোগ নেই, সামনে এগিয়ে যেতে হবে।'
আগামী ২০, ২২ ও ২৪ জুলাই-এই তিনদিনে মাঠে গড়াবে সিরিজের ম্যাচগুলো। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও ঘরের মাঠে আত্মবিশ্বাসে ভর করে লড়তে চায় বাংলাদেশ। সেই লড়াইয়ে নাঈমের মতো খেলোয়াড়দের বাড়তি প্রস্তুতি বাড়িয়ে দিচ্ছে আশার আলো।
