ড্রাগন বাঁচানোর লড়াইয়ে গ্রামবাসী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ২২:০০

ইন্দোনেশিয়ার যে দ্বীপগুলোতে কমোডো ড্রাগন নামে পরিচিত বিশাল আকৃতির সরীসৃপের বসবাস, সেদেশের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সেখানে আর কোনো মানুষকে যেতে দেওয়া হবে না। তারা বলছে, ঐ দ্বীপগুলোতে এখন থেকে গণহারে ট্যুরিস্টদের আনাগোনা বন্ধ করা হবে। দ্বীপগুলোতে যেসব মানুষ বসত করেছে, তাদেরও সেখান থেকে সরে যেতে হবে। খবর বিবিসি বাংলার।  বহু বছর ধরে মানুষ কমোডো ড্রাগন দেখে মুগ্ধ। এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় গিরগিটিজাতীয় প্রাণী। এদের দাঁত ধারালো, লম্বা লেজ এবং এর কামড়ে বিষ রয়েছে। পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার এক কোনায় কতগুলো বিশেষ দ্বীপে এদের বসবাস। এদের দেখার জন্য প্রতিবছর হাজার হাজার ট্যুরিস্ট ঐ দ্বীপগুলোতে ভিড় করে। এদের নিয়ে নানা ধরনের ভৌতিক ছায়াছবিও তৈরি হয়েছে। দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, তাদের দেহ-মনের সঙ্গে কমোডো ড্রাগনের গভীর সংযোগ রয়েছে। কিন্তু মানুষের সঙ্গে এই প্রাণীর সম্পর্ক এখন বদলে যাচ্ছে।

‘এই দ্বীপের নাম কমোডো দ্বীপ, তাই এটা শুধু কমোডো ড্রাগনের জন্য। মানুষের জন্য নয়। সেজন্যই এখানে কোনো মানবাধিকার কাজ করবে না। কাজ করবে শুধু প্রাণী অধিকার,’ বলছেন ঐ অঞ্চলের গভর্নর ভিক্টর বুংটিলু লাইসকোডাট।

তিনি বলছেন, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এই দ্বীপ ২০২০ মানুষের জন্য বন্ধ রাখা হবে। এবং এরপর এটি শুধু অল্প কিছু ধনী দর্শনার্থীর জন্য খুলে দেওয়া হবে। দ্বীপের বাসিন্দাদেরও সেখান থেকে চলে যেতে হবে। ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এখন প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দেখছে।

২০ শতকের গোড়ায় ইউরোপ থেকে আসা অভিযাত্রীদের প্রথম দলের তুলনায় কমোডো দ্বীপে এখন অনেক বেশি দর্শনার্থী আসে। আমরা যখন প্রথমবার কমোডো দ্বীপে যাই, তখন দেখলাম একটি বহুতল প্রমোদতরি ‘লোহ্ লিয়াং বে’তে নোঙর করে আছে। সকাল ৭টায় পার্কের গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার ট্যুরিস্ট পার্কে ঢুকতে শুরু করে।

ট্যুরিস্ট নেরমিন আটামান এসেছেন তুরস্ক থেকে। কমোডো ড্রাগন দেখে তিনি মুগ্ধ। ‘এগুলো এত সুন্দর! কিন্তু দেখলে ভয় লাগে,’ বলছেন তিনি, ‘আমি ড্রাগনে বিশ্বাস করি না। কিন্তু এদের দেখলে তাদের মতোই মনে হয়।’