আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার জন্য দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চক্রান্ত করছে বিএনপি। জয়লাভের কোন সম্ভাবনা নেই এটা আঁচ করতে পেরেই তারা নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করতে চায়।
গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, তারা নিজেরা কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। সেজন্য অন্যদের ইস্যুতে নাক গলাচ্ছে, অন্যদের ইস্যুতে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। আমরা তো তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে চাইনি। তাদের ওপর যা হচ্ছে তা আদালতের আদেশে হচ্ছে।
নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি এবার মনোনয়ন বাণিজ্যের রেকর্ড করেছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছি, গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে, বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্যে এবার রেকর্ড করেছে। যাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে তারা বিএনপির নেতাদের বাড়িতে গিয়েও ধরনা দিচ্ছেন। টাকা ফেরত দেয়ার ভয়ে সেইসব নেতারা এখন ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, এই যে ঋণখেলাপির কারণে এত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারপরও তাদের ৫৫৫ জন রয়েছে। এটা কি মনোনয়ন বাণিজ্য নয়?’ প্রার্থিতা বাতিলের খাতায় বিএনপির নাম বেশি এল কেন এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ২৭৮ জনের মনোনয়ন টিকেছে, আর বিএনপির টিকেছে ৫৫৫ জন। তাহলে মনোনয়ন কার বেশি টিকেছে? নির্বাচনে তো অংশগ্রহণ করবে তিনশ জন, এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টকে দিতে হবে না? প্রার্থী হবে তিনশ, এখানে ৫৫৫ জন কোথা থেকে এল?’ সরকার নির্বাচন কমিশনকে পুতুল নাচের আসর বানিয়ে ফেলেছে বলে যে অভিযোগ বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী করেছেন, সে বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়াটাই একটা পুতুল নাচের খেলা। সরকার কেন করবে? নির্বাচন কমিশন কি সরকার? নির্বাচন কমিশন স্বাধীন কর্তৃত্বপূর্ণ আচরণ করে যাচ্ছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হূদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ জোটের মধ্যে অবিশ্বাসের কোন জায়গা নেই। আর কোন ধরনের টানাপোড়েনও নেই। তিনি বলেন, দু’এক দিনের মধ্যে আমাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে পারব। তারপর জোটগতভাবে আমাদের প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব পরিবর্তন হওয়ায় মহাজোটের প্রার্থী মনোনয়নে কোন টানাপড়েন সৃষ্টি হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিবের বহিষ্কারের বিষয়টা তাদের ব্যাপার। দলটির চেয়ারম্যানের নির্দেশেই তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এখানে আমাদের কোন হাত নেই। আর এ নিয়ে মহাজোটের যে ঐক্য প্রক্রিয়া, এখানে প্রভাব পড়বে না।’
লন্ডন থেকে তারেক রহমানের নির্দেশেই বিএনপির পুতুল নাচ চলছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেমনি নাচাও তেমনি নাচে, পুতুলের কী দোষ? রশিটা লন্ডন থেকে টানছে। কামাল হোসেন তো নামকাওয়াস্তে নেতা, অনেক দুঃখে কষ্টে নির্বাচনটাই করছেন না। নেতাও নেই, মাথাও নেই। এই জোটকে কে ভোট দেবে! মানুষ জিজ্ঞেস করবে- কে হবেন প্রধানমন্ত্রী, কী জবাব দেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব?’ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের যে অভিযোগ বিএনপি এনেছে, তাও অস্বীকার করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘যখন নির্বাচন কমিশন তাদের পক্ষে না থাকে, তখন তো নির্বাচন কমিশন সত্ মা হয়ে যায়। এখন নির্বাচন কমিশন যদি তাদেরকে গ্যারান্টি দিতে পারে যে আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করবে, তাহলে তাদের কাছে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হবে।’ ‘আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে’ মর্মে বিএনপির নেতাদের অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়া পরিবারই বঙ্গবন্ধু পরিবার ও আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য সব ধরনের ষড়যন্ত্র করেছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নিরাপদে বিদেশে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা, ইনডেমনিটি বিল পাস করে তা সংবিধানে স্থান দেয়ার কাজগুলো ওই জিয়া পরিবারই করেছিল। আওয়ামী লীগ কখনো নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি করেনি, করবেও না। কারণ আওয়ামী লীগ এ ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
