স্নেহ মমতার মূর্ত প্রতীক মা। যার মা নেই তার চেয়ে অভাগা এ পৃথিবীতে কেউ নেই। ছোট্ট অবুঝ শিশু তাসলিমা তুবা (৪) মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকত। মায়ের স্পর্শ ছাড়াই আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে গতকাল রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরেছে তুবা। কারণ এক গুজবে সব শেষ হয়ে গেছে তার। ছোট্ট শিশু তুবা হারিয়েছে তার প্রিয় মাকে। গত শনিবার রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারান রেনু (৪০)।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাকে দাফনের পর থেকে মায়ের অপেক্ষায় কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে তুবা ও তার ভাই। আত্মীয়দের আদর সোহাগে কিছুক্ষণের জন্য কান্না থামলেও মায়ের আদর তো আর পাচ্ছে না। তার চোখ সারাক্ষণ খুঁজছে শুধু মাকে। মায়ের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে থেমে থেমে চলছে তার কান্না। কান্নাই যেন এখন তার একমাত্র সম্বল। তার কান্নায় শোকের মাতম চলছে রেনুর স্বজনদের মধ্যেও। আজও তুবা জানে না তার মা কোথায় আছে। কেমন আছে। কেউ জিজ্ঞাসা করলেই বলছে, মা চকলেট আনতে নিচে গেছে। ইতিমধ্যে ঘটনাটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয় দেশ-বিদেশ জুড়ে। এতে অনেকেই তুবা ও তার ভাইয়ের সব দায়িত্ব নিতে চাইলেও স্বজনরা তাতে রাজি নন।
রেনুর বড় বোন নাজমুন নাজার বলেন, রেনুর ১০ বছরের ছেলে ও চার বছরের মেয়েকে নিয়ে ঢাকা চলে যাচ্ছি। ছেলে ও মেয়ে এখন থেকে আমার কাছেই থাকবে। ওরা গ্রামে আসত মায়ের সঙ্গে। কিন্তু এক গুজবে মায়ের লাশ নিয়ে এসে এখন চলে যাচ্ছে মায়ের স্পর্শ না পেয়েই। তিনি আরো বলেন, গুজব ছড়িয়ে একজন নারীকে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে, এটি মেনে নেওয়া যায় না। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যেন আর কোনো মানুষ এভাবে গুজবের বলি না হয় সেই দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে গুজবের কবলে পড়ে গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়। পরের দিন রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে রেনুর জন্য দোয়া, মিলাদের আয়োজন করা হয়। গতকাল তুবা ও তার ভাই ঢাকার উদ্দেশে ফিরে যায় স্বজনদের সঙ্গে।
