প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের পক্ষে বিক্ষোভ, যুক্তরাজ্যজুড়ে ১০০ জনকে গ্রেপ্তার

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৫, ১৭:১৫

গাজায় আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানানো প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপকে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করে নিষিদ্ধ করার ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় সপ্তাহান্তে লন্ডনে বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার (১৯ জুলাই) বিক্ষোভ চলাকালে লন্ডন এবং অন্যান্য শহরে ১০০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ।

গত সপ্তাহেও যুক্তরাজ্যজুড়ে বিক্ষোভে ৭২ জনকে এবং তার আগের সপ্তাহে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করার পর এই সপ্তাহে তৃতিয়বারের মতো গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপকে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে রাস্তায় নামায় ব্রিটেনে একজনকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ জানিয়েছে, লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কোয়ারে একটি বিক্ষোভে ফিলিস্তিনি পদক্ষেপের সমর্থনে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের জন্য সন্ত্রাসবাদ আইনের অধীনে প্রায় ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা 'আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, আমি ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে সমর্থন করি' লেখা প্ল্যাকার্ড ধরেছিল।

বিক্ষোভ চলাকালে লন্ডনের একটি পৃথক মিছিল থেকে আরও ৯ জনকে এবং কর্নওয়ালের ট্রুরোতে আরও ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপকে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ম্যানচেস্টারে অন্যান্য বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পশ্চিম ব্রিস্টলে আরও ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবার্গে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৫ জুলাই থেকে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পর থেকে পুলিশ সতর্ক করে দিয়েছে, তদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা এখন একটি অপরাধ।

দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একটি বিমান ঘাঁটিতে বিক্ষোভে ফিলিস্তিনপন্থী এই সংগঠনের কর্মীরা জড়িত - এমন দাবি তুলে কয়েকদিন পরই ব্রিটিশ সরকার ২০০০ সালের সন্ত্রাসবাদ আইনের অধীনে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সেখানে মূলত দুটি বিমানে লাল রঙ ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে, যার ফলে আনুমানিক ৭০ লাখ ডলার ক্ষতি হয় বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত চারজনকে এখনো হেফাজতে রাখা হয়েছে।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশন তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছে। কেননা তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকা বা সমর্থন করাকে একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যার শাস্তি ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। এটিকে বিশ্লেষকরা বাকস্বাধীনতার ওপর ব্রিটিশ সরকারের আক্রমণ হিসাবে দেখছে।

ইত্তেফাক/এসকে