দেশের বিদ্যুত্ উত্পাদনে সরকারি কেন্দ্রগুলোকে পেছনে ফেলেছে বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্রগুলো। সরকারি খাতের বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতাকে ছাড়িয়েছে বেসরকারি খাত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দশ বছরে দেশে বিদ্যুতের উত্পাদন ক্ষমতা বেড়েছে প্রায় চারগুণ। এ বৃদ্ধির সিংহভাগই হয়েছে বেসরকারি খাতে। বর্তমানে মোট বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতার ৫৫ শতাংশ বেসরকারি খাতে। এর ফলে দেশে লোডশেডিং কমার পাশাপাশি বিদ্যুেসবার পরিধি বেড়েছে। তবে সমান্তরালে বেড়েছে বিদ্যুতের দাম।
গত দশ বছরে দেশে বিদ্যুতের উত্পাদন ক্ষমতা বেড়েছে প্রায় চারগুণ। উত্পাদন সক্ষমতায় এগিয়ে গেছে বেসরকারি খাত। বর্তমানে মোট বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতার প্রায় ৫৫ শতাংশ বেসরকারি খাতের।
বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদ্যুত্ উত্পাদনের স্থাপিত ক্ষমতা ২০ হাজার ৩৪৩ মেগাওয়াট। ২০০৯ সালে ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। বর্তমানে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর স্থাপিত ক্ষমতা ১১ হাজার ৫৭ মেগাওয়াট যা মোট ক্ষমতার ৫৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর মধ্যে ৩ হাজার মেগাওয়াট ক্যাপটিভ ও কয়েক মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুত্ রয়েছে।
চাহিদা অনুযায়ী দেশে এখন দৈনিক ১০ থেকে ১১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদিত হচ্ছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুত্ উত্পাদনের রেকর্ড ১১ হাজার ৬২৩ মেগাওয়াট।
বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্র জানায়, গত দশ বছরে বিদ্যুত্ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে দুই কোটিরও বেশি। ২০০৯ সালে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ। এখন তা তিন কোটি ১২ লাখ ছাড়িয়েছে। ২০০৯ সালে দেশের মাত্র ৪৭ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত্ সংযোগের আওতায় ছিল। এখন তা ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ২০১৯ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বেসরকারি খাতের বিদ্যুত্ উত্পাদনকারীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস্? অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) সূত্র জানায়, গত ১০ বছরে বিদ্যুত্ খাতে তারা প্রায় এক লাখ কোটি টাকা (প্রায় ১হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করেছেন। ২০৪০ সাল নাগাদ আরো প্রায় সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা (৫ হাজার কোটি ডলার) বিনিয়োগের উদ্যোগ রয়েছে। বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত মেটাতে বেসরকারি বিনিয়োগেই সমাধান চায় সরকার। সেটি অনেকটা হয়েছেও। সরকারের আহবানে যেমন বেসরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে তেমনি সরকার নীতিসহায়তাসহ নানা ছাড়ও দিয়েছে।
সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগেও (পিপিপি) বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের রয়েছে। বিদ্যুত্ খাত মহাপরিকল্পনা ২০১৬ অনুযায়ী, পিপিপির আওতায় ৫৫টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এগুলোর মোট উত্পাদন ক্ষমতা হবে প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুত্ খাতের কয়েকটি মেগা প্রকল্পেও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিআইপিপিএ’র সভাপতি মুহম্মদ লতিফ খান বলেন, সরকারি নীতি ও প্রশাসনের সহযোগিতার ফলে বিদ্যুত্ উত্পাদনে বেসরকারি খাত এগিয়ে গেছে। এখন শুধু উত্পাদন নয়, বিতরণ-সঞ্চালনেও কাজ করার চিন্তা করছেন উদ্যোক্তারা।
বিআইপিপিএ জানায়, বিদ্যুত্ উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের ফলে সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত ১০ হাজার লোকের। আর অপ্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে ৩ লাখের বেশি। ২০৪০ সাল নাগাদ এই খাতে সরাসরি প্রায় ৪০ হাজার এবং অপ্রত্যক্ষ চার লাখের বেশি কর্মসংস্থান হবে।
বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, লোডশেডিং মোকাবেলা এবং শিল্পে বিদ্যুতের জোগান দেয়ার চাপ মোকাবেলায় বেসরকারি খাত সহযোগী হয়েছে। এখন এ খাতের উত্পাদন ক্ষমতা বেড়ে গেছে। সুযোগ পেলে বেসরকারি খাত যে উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে এটি বড় উদাহরণ। সরকারের বড় প্রকল্পগুলোর সুফলও শিগগিরই মিলবে।
