কর্ণফুলীর ১৫ ঘাটে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ২২:২২

কর্ণফুলী নদীর ১৫টি ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে যাত্রীরা। ঘাটগুলো ইজারা দিয়ে বছরে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু ঘাটগুলোতে যাত্রী ওঠানামায় নিরাপদ কোনো সিঁড়ি নেই। কাঠ ও পাকা সিঁড়িগুলো ভাঙাচোরা। ঘাটে নেই যাত্রী ছাউনি। নৌযানে ওঠানামায় যাত্রীরা নিত্য দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। ভাটায় সময় পারাপারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের অভিযোগও রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ঘাটগুলোতে নৌযানের সংখ্যা অনেক কম।

কর্ণফুলী নদীতে চাক্তাই থেকে মোহনা পর্যন্ত যাত্রী পারাপারের ১৫টি ঘাট রয়েছে। এসব ঘাট দিয়ে প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, শ্রমিক, স্কুল,কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার মানুষ কর্ণফুলী নদী পারাপার করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্ণফুলীর ঘাটগুলো দিয়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। ভোর থেকে  গভীর রাত পর্যন্ত যাত্রী পারাপার হয়। কর্ণফুলী নদীর দুপাশে অনেক শিল্পকারখানাসহ নানা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম পটিয়া, আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী এলাকার মানুষের একটি বৃহত্ অংশ এসব ঘাট দিয়ে কর্ণফুলী নদী পারাপার করে। চট্টগ্রাম বন্দর, মাঝিরঘাট, সদরঘাট, সিইপিজেড, শাহ আমানত বিমান বন্দর, পতেঙ্গা, রিয়াজউদ্দিন বাজার ও আগ্রাবাদ এলাকায় কর্মরতরা এসব ঘাট দিয়ে দৈনন্দিন পারাপার করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাটগুলোতে যাত্রী ওঠানামার পাকা ও কাঠের তৈরি সিঁড়িগুলো ভাঙাচোরা। নৌযানে যাতায়াতের রাস্তাগুলো কাঁচা ও সরু হওয়ায় যাত্রীদের নিত্য বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। ঘাটের পাকা সিঁড়িগুলো ভেঙে গেলেও মেরামত করা হচ্ছে না। ভাটার সময় একাধিক নৌযান পার হয়ে পারাপারের নৌযানে উঠতে হয়। এ সময় ঘটে দুর্ঘটনা।

এসব নৌযানে করে শুধু যাত্রী পারাপার হয় না। কর্ণফুলী নদীতে নোঙ্গর করে থাকা জাহাজগুলোতে আসা-যাওয়া করতে হয় নৌযানে করে। বাংলাবাজার ঘাট দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে ব্যাংকার নুরুল আলম। তিনি জানান, নৌযানে ওঠানামার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয়। কয়েকবার সিঁড়ি থেকে নিচে পড়ে গেছি। টাকা দিয়ে ঘাট পারাপার করছি। কিন্তু তারা সিঁড়িগুলো মেরামত করছে না। রাতেরবেলায় পারাপারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে বলে জানান তিনি।

বাংলাবাজার ঘাট সাম্পান মালিক সমিতির সভাপতি এনামূল হক বলেন, এই ঘাটে যাত্রী পারাপারের প্রায়  ২৫০টি নৌযান রয়েছে। ভোর থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত প্রতিদিন হাজারো নারী, পুরুষ ও শিশু পারাপার করছে। অনেক অসুস্থ রোগীকে পারাপার করতে হয়। ভাটার সময় ৭০/৮০ ফুট হেঁটে যাত্রীদের নৌযানে ওঠানামা করতে হয়। আমরা ঘাটগুলো মেরামতে সিটি মেয়রের সঙ্গে একাধিকবার দেখা করে আবেদন করেছি। এখন ঘাট নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে শুনেছি। কিন্তু ঠিকাদার কাজ করছে না।

ঘাটগুলোতে যাত্রী পারাপারের প্রায় ১২০০ ইঞ্জিনচালিত নৌযান রয়েছে। যাত্রী পারাপারের নৌযানগুলো ছোটো আকৃতির। কিন্তু অধিকাংশ সময় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে দেখা যায়। কর্ণফুলী নদীতে নৌযান তদারকি করেন কোস্ট গার্ড। জানতে চাইলে কোস্ট গার্ড চট্টগ্রাম বিভাগের অপারেশন অফিসার সাইফুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘নৌযানগুলো যেন অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে না পারে সে জন্য আমরা চেষ্টা করি। ডাঙ্গারচর ঘাটে জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামও দিয়েছিলাম। কিন্তু যাত্রীরা সচেতন না হওয়ায় ব্যবহার করতে চায় না। আবার প্রয়োজনের তুলনায় নৌযানও কম। ঈদের সময় যাত্রীর চাপ বেশি থাকে। তখন আমরা বেশি কড়াকড়ি করি। তবে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এড়াতে যাত্রীদের পাশাপাশি ঘাটের ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিধিদের দায়িত্ব নিতে হবে।’

জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের এস্টেট অফিসার এখলাছুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, কর্ণফুলী নদীতে যাত্রী পারাপারের ১৭টি ঘাট থাকলেও সিটি করপোরেশন ১৫টি ঘাটের ইজারা দিয়ে থাকে। এক বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয়। দুটি ঘাটের সিঁড়ি নির্মাণে টেন্ডার হয়েছে। অন্য ঘাটের সিঁড়িগুলোও আমরা নির্মাণ করে দিয়েছি।