সৈয়দপুর শহর রক্ষা বাঁধে বাসা বেঁধেছে ইঁদুর!

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ২২:২৯

সৈয়দপুর শহর রক্ষা বাঁধে বাসা বেঁধেছে ইঁদুরের দল। ইঁদুরের গর্তের কারণে বন্যায় বাঁধটি ভেঙে প্লাবিত হতে পারে সৈয়দপুর শহর ও বিমানবন্দর। চলতি বছর পানি উন্নয়ণ বোর্ড বাঁধটি সংস্কার না করায় আতঙ্কিত শহরবাসী।

সূত্রমতে, সৈয়দপুর শহর রক্ষায় শহরের পশ্চিম পাশে খড়খড়িয়া নদীর পূর্বপাড়ে ১৯৬৫ সালে ৭ কিলোমিটার এবং পরে আরো সাড়ে ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট চওড়া ও ১০ ফুট উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ইঁদুরের গর্ত আর ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলে বাঁধটি জরাজীর্ণ হওয়ায় ২০১৭ সালের বন্যায় পাটোয়ারীপাড়া নামক স্থানে প্রায় ১০০ ফুট ভেঙে যায় বাঁধটি। এতে সৈয়দপুর বিমানবন্দরসহ শহরের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পানিবন্দি হয়ে পড়ে পাঁচ হাজার পরিবার। কোমর পানিতে তলিয়ে যায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল, সৈয়দপুর মহাবিদ্যালয়, স্টেডিয়ামসহ শহরের প্রধান সড়কগুলো। পানির তোড়ে বিমানবন্দরের পূর্ব ও পশ্চিম দিকের প্রায় ২০০ ফুট সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে। ঐ বছর সাড়ে ১৫ কিলোমিটার বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশসহ বাঁধের ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত যেনতেনভাবে সংস্কারের কাজ করে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু এ বছর কোনো সংস্কার করা হয়নি। বাঁধে ইঁদুরের গর্ত আর বাঁধের কোল ঘেঁষে পুকুর তৈরি ও মাটি কেটে নেয়ায় এবারে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাঁধটি।

সৈয়দপুর শহরের কুন্দল এলাকার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, শহর রক্ষা বাঁধটি গতবছর নামমাত্র সংস্কার করে কর্তৃপক্ষ। বাঁধের গোড়ার মাটি কেটে সংস্কার, ইঁদুর গর্ত ভরাট না করায় এবং কোল ঘেঁষে পুকুর নির্মাণের ফলে বন্যায় আবারো ভেঙে যাবে বাঁধটি।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল চন্দ্র সরকার জানান, গতবছর আমরা যে বরাদ্দ পেয়েছিলাম তা দিয়ে অধিক দুর্বল স্থানগুলো আমরা মেরামত করেছি। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি আমরা এখন পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করছি। কোথাও কোনো সমস্যা হলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তা মেরামতের ব্যবস্থা নেবো। তিনি আরো জানান, কোথাও ইঁদুরের গর্ত থাকলে তা বন্ধ করে দিচ্ছি এবং ইঁদুর মারার ব্যবস্থা ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছি।