এক কাপ কফির দাম দশ টাকা থেকে দশ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে; কিন্তু এক কাপ কফির থেকে আপনি কতটা তৃপ্তি লাভ করবেন সেটা মোটেই দামের ওপর নির্ভর করে না। বৃষ্টিভেজা অলস বিকালে কিংবা দুপুরের খাবারের পর যখন ক্লান্তি আপনাকে ঘিরে ধরতে চায় তখন মনের মতো এক কাপ কফি হাতে পেলেই কেবল এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবেন আপনি।
বিশ্বে প্রতিদিন আনুমানিক ২০০ কোটি কাপ কফি পান করা হয়। সকালের নাস্তায়, দুপুরের খাবারের পর অথবা অলস বিকালে অনেকটা অভ্যাসবশত কফি পান করার প্রচলন অনেকের মধ্যেই রয়েছে। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় কফি নিয়ে যতটা হইচই এবং আলোচনা হয়, তা আগে কখনো ছিল না বললেই চলে। তবে ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ কফি পান করে আসছে। পৃথিবীতে সর্বপ্রথম পঞ্চদশ শতাব্দীতে কফি পানের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রথম ক্যাফেগুলো ছিল মধ্যপ্রাচ্যে। কফি যে শুধু ঘরেই উপভোগ করা হতো, তা নয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরে কফির দোকানগুলোকে বলা হতো ‘কাহভেহ খানেহ’। ঐসব কফির দোকানগুলো পরবর্তীতে দৈনন্দিন আড্ডা, জমায়েতের জায়গা হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। তবে ফিনল্যান্ডের অধিবাসীরা গড়ে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ কফি পান করে।
ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে সারা বিশ্বে ৬০ কেজি ওজনের কফির ব্যাগ বিক্রি হয়েছিল ৯ কোটি। এবছর সেই সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬ কোটিতে। কফিতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। এগুলো আমাদের দেহের কোষগুলোকে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ ও রাসায়নিকের মিশ্রণ ঠেকাতে সাহায্য করে। এবছরের শুরুতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, দিনে অন্তত তিন কাপ কফি পান করলে হার্ট অ্যাটাকসহ অনেক জটিল রোগের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে স্নায়ু উত্তেজক হিসেবে, অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে ক্যাফেইনের কিছু ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। গর্ভবতী অবস্থায় ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে আনা ভাল। শিশু জন্মের সময় কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়ার সঙ্গে ক্যাফেইন গ্রহণের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফেইনের কারণে গর্ভপাত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন চিকিত্সকরা। বৃটিশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, একজন গর্ভবতী নারীর দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি কফি পান করা উচিত নয়।
কফি সম্পর্কে অনেক তথ্যই আমাদের অজানা। কফি আসলে এক ধরনের চেরি ফল। এই চেরির বীজগুলো চোলাই করে উত্পাদন করা হয় কফি। সেগুলো আসলে এক ধরনের ফলের রোস্ট করা বীজ, যে ফলগুলোকে কফি চেরি বলা হয়। মানুষ যুগযুগ ধরে কফি পান করে আসলেও কোথাও কোথাও এটি খেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে মানুষ। নষ্ট হয়ে যাওয়া কফি চেরি দিয়ে ময়দা তৈরি করে কফি তৈরিকারী অনেক প্রতিষ্ঠান। এই ময়দা দিয়ে রুটি, চকলেট, সস বা কেক তৈরি করা হয়।
বিষ্ঠা থেকে তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম দামী কফি। এই কফির নাম ‘কোপি লুয়াক’। ‘সিভেট’ নামের স্তন্যপায়ী এক ধরনের বিড়ালের পরিপাকতন্ত্র হয়ে মানুষের হাতে পৌঁছায় কফি হিসেবে। বিড়ালের পরিপাকতন্ত্র দিয়ে যাওয়ার সময় স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে কফি চেরিগুলো গাজানো হয়, পরবর্তীতে সেগুলো সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়। ‘কোপি লুয়াক’ এর কেজি প্রায় ১৪০০ ডলার।
বর্তমানে এই ‘কোপি লুয়াকের’ সাথে দামের দিক দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ব্ল্যাক আইভরি কফি। হাতে আলাদা করা কফি চেরি খাওয়ার পর হাতিদের বিষ্ঠা থেকে তৈরি হয় এই জাতের কফি। ব্লেক ডিঙ্কিন নামের একজন কানাডিয়ান আবিষ্কার করেছিলেন এই ব্ল্যাক আইভরি কফি।
