লোহালিয়া সেতু অসমাপ্ত পড়ে আছে পাঁচ বছর!

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ২২:২৯

কাঙ্ক্ষিত লোহালিয়া সেতুর নির্মাণ কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে গত পাঁচ বছর ধরে। অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে নতুন দরপত্র আহবান করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও মিলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, অতি শিগগিরই এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

পটুয়াখালীবাসী দীর্ঘদিন ধরে লোহালিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই সেতু নির্মিত হলে জেলা সদরের সঙ্গে দশমিনা, বাউফল ও গলাচিপা এই তিন উপজেলার সরাসরি সড়ক সংযোগ স্থাপিত হবে। তাছাড়া, রাঙ্গাবালী উপজেলা ও ভোলার সঙ্গে অনেকটা সহজ হবে যোগাযোগ। এ অবস্থায় সম্ভাব্যতা যাচাই সাপেক্ষে এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধানে ৪৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে লোহালিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এদিকে, কাজ চলমান অবস্থায় দুই বছর পর ২০১৪ সালে পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ সেতুর উচ্চতা কম হওয়ায় নির্মাণ কাজে আপত্তি জানায়। এ অবস্থায় ঐ বছর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এই সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ইতিমধ্যে সেতু নির্মাণের অর্ধেকের বেশি কাজ সমাপ্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়।

এলজিইডি পটুয়াখালীর সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান জানান, লোহালিয়া সেতুর পূর্বের নির্মিত অবকাঠামো ঠিক রেখে ডিজাইন সংশোধন করে পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র সাপেক্ষে চলতি বছরে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ডিজাইন অনুযায়ী এই সেতুর উচ্চতা ১ দশমিক ৩০ মিটার বৃদ্ধি করে ১৩ দশমিক ৫০ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ১০৭ মিটার বৃদ্ধি করে ৫৭৬ মিটার করা হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পুনরায় দরপত্র আহবান করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই সেতু নির্মাণের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নে বর্তমান চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি টাকা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী তীর্থজিত রায় ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে  বলেন, লোহালিয়া সেতুর কাজের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী ঠিকাদারকে সম্মতির জন্য (এনওএ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। কার্যাদেশ প্রদান সাপেক্ষে আগামী একমাসের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।