মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে ফুড ফ্লেভার আমদানির আড়ালে এক ট্রাক শাড়ি, থ্রীপিস ও ভায়াগ্রা আমদানি করার অপরাধে ট্রাকসহ মালামাল জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ সময় জব্দ করা হয়েছে পণ্য বোঝাই ঐ ট্রাকসহ তার সকল কাগজপত্র। বেনাপোল বন্দর থেকে জব্দকৃত পণ্য চালানটির পুনঃপরীক্ষা হয়েছে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে বুধবার দুপুরে। পণ্য চালানটির আমদানিকারক ঢাকার রেড গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গত ২ এপ্রিল ২০১৯ একটি এলসি খোলেন পণ্যটি আমদানি করার জন্য। পণ্য চালানটির প্যাকিং লিস্টে আমদানি করা হয় ২৫ কার্টুনে মাত্র ৫০০ কেজি ফুড ফ্লেভার। কিন্তু পণ্য চালানটি জব্দ করার পর ঐ ট্রাকটি থেকে ২০০ কেজি ভায়াগ্রাসহ বিপুল পরিমাণ রেডিমেট গার্মেন্টসসহ শাড়ি, থ্রীপিস পাওয়া যায়।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ইনভেস্টিগেশন রিসার্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদল সহকারী কমিশনার আকরাম হোসেনের নেতৃত্বে জব্দকৃত মালামাল পরীক্ষা করেছেন। বুধবার পরীক্ষণের রিপোর্ট পেশ করেছেন। রিপোর্টে পণ্য চালানটির মালামাল ঘোষণার আড়ালে এসব পণ্য পাওয়া গেছে। যা থেকে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছিল কয়েক লাখ টাকা বলে জানান কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে পণ্য চালানটিতে আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষণায় ছিলো ফুড ফ্লেভার। প্রথমে কাস্টমস পরীক্ষণ প্রতিনিধিদল ২০০ কেজি কেমিক্যাল বলে উল্লেখ করে। পরে খুলনা কুয়েট থেকে পরীক্ষণের পর প্রমাণ মেলে উক্ত ২০০ কেজি কেমিক্যালই আমদানি নিষিদ্ধ সিলডেনাফিল সাইট্রেট বা ভায়াগ্রার মূল উপাদান। যার বাজারমূল্য ১ কোটি টাকা।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী প্রেস কনফারেন্স সাংবাদিকদের জানান, গোপন সূত্রে সংবাদ পায় একজন আমদানিকারক ভারত থেকে ঘোষণার আড়ালে একটি পণ্য চালান বেনাপোল বন্দরে নিয়ে আসছে। এমন সংবাদে কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান বন্দরের শেড এলাকা থেকে পণ্য বোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান (ট্রাক) জব্দ করে। কাভার্ড ভ্যান থেকে জব্দকৃত ভায়াগ্রা প্রথমে সতর্কতার সঙ্গে কাস্টমস হাউসের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবে “রমন স্পেক্ট্রোমিটারের” সহযোগিতায় ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পরীক্ষা শেষে ২০০ কেজি ভায়াগ্রার মূল উপাদান পাওয়া যায়। পরবর্তীতে অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর পণ্য বিবেচনায় পণ্যের নমুনা খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) পাঠানো হয়। দীর্ঘ তিন মাস পর কুয়েট পরীক্ষা করে পণ্যটিকে ৯৮% ভায়াগ্রা বলে রিপোর্ট প্রদান করেন। কুয়েটের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পরেই মিথ্যা ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার ১৮২ সদ্য দেশকে মাদক, বিস্ফোরক ও এ ধরনের ক্ষতিকর পণ্য চোরাচালানের বিষয়ে দীর্ঘদিন সর্তকবার্তা দিলেও বাংলাদেশেই প্রথম আটক হলো এ ধরনের পণ্য চালান। বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানানো হলে তারা ভবিষ্যতে আরো সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেন বেনাপোলসহ সকল কাস্টমস হাউসকে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট আহাদ এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে বলে কাস্টমস সূত্র জানান। ইতিমধ্যে এ ধরনের আর একটি চালান সন্দেহের তালিকায় রেখে খালাস স্থগিত করে নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বন্দর অভ্যন্তরে।
