শামুক খাচ্ছে ধানচারা, আমন চাষ ব্যাহতের শঙ্কা

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৫, ১৪:২৯

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় আমনধান চাষে নতুন সংকট দেখা দিয়ে। বীজতলার ধানচারা খেয়ে ফেলছে শামুক। এ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। শামুকের কারণে চলতি মৌসুমে আমনধান ফলনে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩৪ হাজার ৭শ’ ১৮ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমনের বীজতলা করা হয়েছে ১২ শ’ ২ হেক্টর জমিতে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলের ৫ শ’ ৬১ হেক্টর জমির বীজ পানির নীচে তলিয়ে গেছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, জমি থেকে পানি কমলেও নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে শামুক। শামুক বীজতলার নতুন সবুজ পাতা গজালেই পানির নীচের নরম মাটিতে ঢুকে ধান গাছের কচি সবুজ পাতা ও মূল খেলে ফেলছে। এর ফলে গাছ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে মারা যায়।

উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের শৌলা গ্রামের কয়েকজন কৃষক নয়ন খান (৬২) বলেন,  আমি দুই বারে ১ মণ ধানের বীজতলা করেছি। প্রথমবার বীজ বৃষ্টির পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে, দ্বিতীয়বার পানির নিচে বীজধান চারা তলিয়ে কিছু নষ্ট হয়েছে। যা আছে তার অধিকাংশ শামুকে খেয়ে ফেলছে। ক্ষেত থেকে শামুক তুলে ফেলে অনেক কষ্ট করে বীজধান চারা রাখা চেষ্টা করছি। বর্তমানে যে পরিমাণ বীজধান আছে তা দিয়ে তার জমি সম্পূর্ণ চাষাবাদ হবে না। সরকার যদি আমন বীজ সরবরাহ না করে তাহলে তার অধিকাংশ জমি খালি থাকবে।

একই গ্রামের কৃষক বাবুল হাওলাদার বলেন, আগে শামুক এতটা সমস্যা করতো না। চলতি মৌসুমে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় জমির পানির পরিমাণ বেড়েছে। পানিবন্দী অবস্থায় শামুকের বিস্তার অনেক বেশি হয়। জমিতে ঢুকলেই দেখা যাচ্ছে শত শত শামুক চারার মূল কামড়ে খেয়ে ফেলছে। এখন চারা কিনে রোপণ করতে হবে। খরচও বেড়েছে, সময়ও নষ্ট হচ্ছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, এটা একটা প্রাকৃতিক সমস্যা। বৃষ্টির পর জমিতে পানি জমে থাকার কারণে শামুকের বিস্তার বেশি হয়েছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি শামুক হাত দিয়ে কুড়িয়ে ফেলে দিতে। পানি কমে গেলে কার্বোফুরান জাতীয় কীটনাশক ব্যবহারে শামুক নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে কীটনাশক প্রয়োগের জমি থেকে পানি যেন মৎস্য জলাশয়ে না যায়। সে ক্ষেত্রে মাছের ক্ষতি হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তাদের সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা হবে। আশা করছি আমান চাষ ব্যাহত হবে না।

ইত্তেফাক/এপি