স্কুলে বিমান দুর্ঘটনা: বিশ্বে বিরল, প্রাণহানি অনেক

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৫, ১৭:২৪

ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা শুধু দেশের নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও একটি ব্যতিক্রমী ও মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। যদিও জনবহুল এলাকায় বিমান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে এমন দুর্ঘটনা এখন খুবই বিরল, তবে ইতিহাসে এ ধরনের কিছু ঘটনা রয়ে গেছে, যার বেশিরভাগই ঘটে সামরিক বা প্রশিক্ষণ বিমানের ক্ষেত্রে।

বিশ্বজুড়ে এমন কিছু বড় দুর্ঘটনার নজির:

  • জাপান (১৯৫৯): মার্কিন বাহিনীর এফ-১০০ সুপার সাবের যুদ্ধবিমান কিশিকাওয়া শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিধ্বস্ত হয়। প্রাণ হারায় ১১ শিশুসহ ১৮ জন, আহত হন দেড় শতাধিক।

  • সোভিয়েত ইউনিয়ন (১৯৭২): রাশিয়ার লোগরস্ক শহরের একটি কিন্ডারগার্টেনে আন্তোনভ বিমান বিধ্বস্ত হলে ২৪ শিশুসহ বহু আরোহীর প্রাণহানি ঘটে।

  • যুক্তরাষ্ট্র (১৯৮৬): ক্যালিফোর্নিয়ার সেরিটোসে দুটি বিমানের সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ একটি স্কুল মাঠে পড়ে। স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা রক্ষা পেলেও মোট ৮২ জন নিহত হন।

  • ইতালি (১৯৯০): বোলোগনায় একটি সামরিক বিমান স্কুলে পড়ে ১২ শিক্ষার্থী নিহত ও ৮৮ জন আহত হন।

  • পাকিস্তান (২০১০): পেশাওয়ারে স্কুলের কাছে ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন।

  • কেনিয়া (২০২৩): নাইরির এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি প্রশিক্ষণ বিমান পড়ে। তবে ছুটির দিন হওয়ায় কেউ হতাহত হননি।

এ ধরনের দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ হলো সামরিক বা প্রশিক্ষণ বিমানের কম উচ্চতায় উড্ডয়ন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তবে সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি, রাডার ও নিরাপত্তা নীতিমালার উন্নয়নে এর হার অনেকটাই কমেছে।

ঢাকায় সর্বশেষ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি FT-7 BGI প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৈমানিকসহ ৩১ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।

বিমানটি ক্লাসরুমে ঢুকে বিকট বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস, সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। দেয়াল ভেঙে, জানালা কেটে অনেককে বের করে আনা হয়। আহতদের দ্রুত সিএমএইচসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয় হেলিকপ্টার ও অ্যাম্বুলেন্সে।

এই দুর্ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—সামরিক মহড়ার ক্ষেত্রেও জনবহুল এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।

ইত্তেফাক/এএম