যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মিউজিয়াম বলেছে, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যে নিধনযজ্ঞ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে তার জোরালো প্রমাণ রয়েছে। মিউজিয়ামের গণহত্যা প্রতিরোধ সেন্টারের উপ-পরিচালক নওমি কিকোলার বলেন, তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর দেখা যায় রোহিঙ্গাদের নৃ-তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় পরিচিতির কারণে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাদের ধ্বংস করতে চেয়েছে। আর বিশ্ব সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ওপর এই নিপীড়নের দিকে দৃষ্টিপাত করেনি। গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে তারা। মিউজিয়াম জানিয়েছে, নৃশংসতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের অ্যাডবাইজরি গ্রুপ, নিজেদের গবেষণা, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ও জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে এসেছে।
এদিকে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে জরুরিভিত্তিতে একটি অপরাধ আদালত স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা দ্য পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল অ্যান্ড পলিসি গ্রুপ (পিআইএলপিজি)। এ সংস্থাটি রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। সোমবার সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের প্রামাণ্য দলিল রয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, কোনও জনগোষ্ঠী নিজ দেশের সরকারের নৃশংস অপরাধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর পরিকল্পিত নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যদিও মিয়ানমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
