অভিভাবকদের অসচেতনতা ও প্রচার প্রচারণার অভাব এবং জন্মনিবন্ধনের সঠিক দিক-নির্দেশনার অভাবে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অনেক শিশুর জন্মের পর জন্মনিবন্ধন হচ্ছে না।
নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়া আহমেদ তুলিপ বলেন, কোনো শিশু জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদে এসে জন্মনিবন্ধন করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে শিশু জন্মের পর কোনো অভিভাবক ইউনিয়ন পরিষদে এসে তার সন্তানের জন্মনিবন্ধন করে না। এটা কিছুটা প্রচার প্রচারণার অভাব এবং অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবের কারণে এমনটি হচ্ছে।
ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন বলেন, হাওরের মানুষের শিক্ষার হার কম, সচেতনতার অভাব থাকায় শিশুদের জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে এসে শিশুটির জন্মনিবন্ধন করাতে হবে সেটি শতকরা ৯৫ জন অভিভাবকই জানেন না। আমরা কি করব। আমরাত আর প্রতিটি বাড়ি বাড়ি ঘুরে শিশুর জন্মনিবন্ধন করতে পারব না। একই কথা বললেন গুরুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহের মিয়া ও দামপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহের উদ্দিন।
নিকলী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিল আফরোজা মুন্নি বলেন, শিশু জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন না করার কারণে অনেক শিশু স্কুলে ভর্তির সময় সমস্যা হয়। শিশুদের সঠিক বয়স জানা যায় না। ইউনিয়ন পরিষদগুলো থেকেও শিশুদের সঠিক বয়স নির্ধারণ করতে পারে না। মনগড়া বয়স দেওয়ার কারণে শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বিলম্ব হয়। যে কারণে ঐ শিশুটি জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার সময় বয়স নিয়ে সমস্যায় পরতে হয়। অনেক ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দিতে পারে না।
