ছেলেধরা আতঙ্কে ঈশ্বরদীর স্কুলগুলোতে কমে গেছে শিক্ষার্থী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ২২:৫৩

পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে এমন ছেলেধরা গুজবে ঈশ্বরদীর স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে। আর এই গুজবে কান দিয়ে ঈশ্বরদীর সর্বত্র বিরাজ করছে ছেলেধরা আতঙ্ক। ছেলে ধরার সঠিক কোনো তথ্য বা প্রমাণ না পেলেও ঈশ্বরদীর সর্বত্র গুজব কাজ করছে। সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে নিয়মিত এই গুজবে কান না দেয়ার জন্য প্রচরণা চালিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। গুজবকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়েই বেশি প্রভাব পড়েছে। পাঠদান চলাকালীন অভিভাবকরা স্কুলে অবস্থান করছে।

বিগত দুই দিনে একটি শিশু ও নারীর লাশ পদ্মা নদী  থেকে উদ্ধারের পর ঈশ্বরদী জুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরমধ্যে সোমবার সন্ধ্যার পর এক নারী মানসিক রোগী ও মঙ্গলবার এক দিন-মজুরকে ছেলেধরা সন্দেহে পিটুনি দিয়ে থানায় সোপর্দের ঘটনা ঘটেছে। দাশুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার আমাদের  জানান, ছেলেধরা গুজবে মঙ্গলবার ও বুধবার স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল।

স্কুলপাড়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, অ্যাসেম্বলিতে সচেতন করার পরও ছেলেধরা গুজবের কারণে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আসতে দিচ্ছে না। এয়ারপোর্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক পূর্ণিমা রায় বলেন, ছেলেধরা গুজবে ঈশ্বরদীর এয়ারপোর্ট সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী উপস্থিতি ৪০ শতাংশ কম।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) অরবিন্দ সরকার জানান, এটি নিঃসন্দেহে গুজব। মঙ্গলবার  পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ  থেকে সচেতনতামূলক মাইকিং শুরু হয়েছে।