টানা চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জয়। শ্রীলঙ্কা সফরের সাফল্য ধরে রেখে এবার পাকিস্তানের বিপক্ষেও সিরিজ পকেটে পুরেছে বাংলাদেশ। আজ সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে লিটন কুমার দাসের দল। সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এবার আলোচনার কেন্দ্রে- বাংলাদেশ কী পরিকল্পনায় নামবে এই ম্যাচে?
আগের দুই ম্যাচেই দেখা গেছে চরম নাটকীয়তা, বারবার বদলেছে ম্যাচের গতি, আর সেই সঙ্গে বদলেছে বাংলাদেশ দলের কৌশল। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে যেমন শুরুর ধাক্কার পর লিটন দাসের 'প্ল্যান বি' ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচ। তার দেওয়া স্পষ্ট বার্তা- বড় স্কোর নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী ১৪০ রানের লক্ষ্য-জাকের আলী অনিকদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে দিয়েছিল। ফলাফল? ৪৮ বলে ৫৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস, যার ফলে ম্যাচ তো জিতেছে বাংলাদেশ, সিরিজটাও নিশ্চিত হয় এক ম্যাচ হাতে রেখেই।
জাকের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, 'লিটন ভাই বললেন ১৪০ করলেই হবে। শেষ বলে ছয় মারতে পারলে হয়তো সেটা হতোও। তবে আমি জানতাম কী করতে হবে, এটাই আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।' জাকের-মাহেদীর পঞ্চম উইকেট জুটির ৫৩ রান, মাহেদীর ২৫ বলে ৩৩ রানের ঝড়, আর জাকেরের শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়া- সব মিলিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়েছিল বাংলাদেশ।
তবে আজকের ম্যাচে সেই একই ধাঁচে নামবে তো বাংলাদেশ? নাকি একাদশে কিছু রদবদল আসবে? সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় বেঞ্চের কয়েকজন খেলোয়াড়কে দেখা যেতে পারে একাদশে। অন্যদিকে ধবলধোলাই এড়াতে মরিয়া পাকিস্তান নামবে সব শক্তি নিয়ে।
এই তিন ম্যাচের সিরিজটি আন্তর্জাতিক সূচির বাইরে গিয়ে আয়োজন করেছে দুই বোর্ড। বাংলাদেশের টানা খেলার মধ্যে থাকার কারণে সিরিজের মাঝে অনুশীলনে তেমন জোর দেয়নি দল। অনুশীলনের চেয়ে ম্যাচ থেকে শেখাকেই গুরুত্ব দিয়েছে তারা। যদিও অনেকেই জিম ও অন্য সেশনে ব্যক্তিগতভাবে সক্রিয় ছিলেন। সেটিই অনুসরণ করেছে পাকিস্তান দল। তার খেসারত দিতে হয়েছে সিরিজ হারিয়ে। দলটির বোলিং অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ বলেছেন, 'ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বিপিএল খেলার সময়ে মিরপুরে যে ধরনের কন্ডিশন দেখেছেন, এখন তার থেকে আলাদা।'
আর সেই আলাদা কন্ডিশনের সঙ্গেই মানিয়ে উঠতে পারেননি সালমান আগারা। পাকিস্তানের সাবেক গতিদানব শোয়েব আখতার বলেছেন, 'পাকিস্তানের বর্তমান খেলোয়াড়রা চ্যালেঞ্জিং উইকেটে খাপ খাওয়াতে পারেন না। কারণ দলটি অনেকাংশেই টেকনিক ও টাইমিংয়ের বদলে কেবল পাওয়ার হিটিংয়ের ওপর নির্ভর করে। এ কারণেই বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তান দল ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করি।'
শ্রীলঙ্কায় বসে লিটন মিরপুরের উইকেট নিয়ে সতর্ক করেছিলেন, এখান কম রান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। জাকের বিষয়টিকে স্পষ্ট করেছেন, সিলেটে বড় স্কোর দেখা যায়, মিরপুরে সেটি দেখা যায় না। তাতে দুই জায়গায় দুই ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে তারা খেলতে নেমেছেন। এমনকি ম্যাচের মধ্যেও পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন জাকেররা। যখন মেরে খেলা দরকার তখন সেটি করেছেন, আবার প্রয়োজনে সচেতন থেকেছেন।
আজও মিরপুরের সেই একই ধীরগতির উইকেটে আবার লো স্কোরিং ম্যাচের সম্ভাবনা। সেখানে আবারও পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলাতে হতে পারে পরিকল্পনা। যেখানে লিটন-মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের দল কী ফের আরেকটি 'প্ল্যান বি' নিয়ে চমকে দেবে পাকিস্তানকে? সেই উত্তর মিলবে আজ সন্ধ্যা ৬টায়, মিরপুরের ফ্লাড লাইটের আলোয়।
