দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের চাঞ্চল্যকর ফিরোজ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ত্রিমুখী প্রেমের জেরেই এক পরকীয়া প্রেমিক অপর পরকীয়া প্রেমিককে খুন করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন- মুচিরচালা গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে সোনা মিয়া এবং তরফপুর পাথালিয়া পাড়া গ্রামের প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সোনা মিয়ার দোকান থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি টেঁটা উদ্ধার হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২৩ জুলাই) দৈনিক ইত্তেফাকে ‘‘তিন যুবকের সঙ্গে ‘প্রেম’ প্রবাসীর স্ত্রীর, এক প্রেমিককে নিয়ে অন্য প্রেমিককে খুন’’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর চাঞ্চল্যকর খুনের মামলাটি অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম এলাকা পরিদর্শন করেন।
গ্রেপ্তারের পর বুধবার (২৩ জুলাই) আসামীদের আদালতে সোপর্দ করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে ফিরোজা খাতুন জানায়, তার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো ফিরোজ মিয়া ও সোনা মিয়ার।
পুলিশ সুত্র জানায়, তরফপুর মাটিয়াগাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ফিরোজ আল মামুন দীর্ঘদিন মালয়েশিয়াতে ছিলেন। রোজার ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে একই এলাকার প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী ফিরোজা খাতুনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। ফিরোজা খাতুন ছিলেন তার ফুপাতো বোন। ফিরোজা তার স্বামীর ভগিপতি সোনা মিয়া, প্রবাসী ফিরোজ এবং অপর এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, গত সোমবার রাতে ফিরোজা বেগম ফোন করে প্রেমিক ফিরোজকে বাসায় ডাকেন। একই রাতে অপর প্রেমিক সোনা মিয়াও ফিরোজার বাড়িতে প্রবেশ করে। ফিরোজকে বাসায় দেখে সোনা মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে ও শরীরে টেঁটা বিদ্ধ করে ঘরে আটকের চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ফিরোজার পেটে টেঁটা দিয়ে আঘাত করে জামাল। এই সুযোগে দৌড়ে পালায় ফিরোজ। জামিলও তার পিছু নেয়। এরপর মঙ্গলবার সকাল বেলা অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় ক্ষেতের পাশে ফিরোজের মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা।
ত্রিভুজ প্রেমের কারণেই ফিরোজ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল রানা।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ত্রিভুজ প্রেমের কারণেই ফিরোজ আল মামুন খুন হয়েছে। প্রেমিকা ফিরোজা খাতুন এবং তার অপর প্রেমিক জামাল উদ্দিন ওরফে সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছিলো। আদালত আসামীদের ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ফিরোজকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
