বিএনপির ওয়ার্ড কাউন্সিলে জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষ

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ১২:০৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিএনপির কাউন্সিলে জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেল পাঁচটার দিকে পৌরসদরের নকিপুর হরিচরণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে উপজেলার পৌর বিএনপির আহবায়ক শেখ লিয়াকত আলী ও বিএনপিকর্মী আনোয়ার-উস শাহাদাতসহ তিনজন আহত হয়। পৌরসদরের নয়টি ওয়ার্ড কমিটি গঠন উপলক্ষে কাউন্সিলের ভোট গ্রহণের সময় জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৪টা থেকে ওয়ার্ডগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। একপর্যায়ে ৮ নং ওয়ার্ডের তালিকায় একশত জাল ভোটার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে ভোট গ্রহণ স্থগিতের আবেদন জানান। এ সময় প্রতিপক্ষ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ ও যুগ্ম-সম্পাদক আশেকেলাহী মুন্নার কর্মী সমর্থকরা সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীকে আক্রমণ করে। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে আনোয়ার-উস শাহাদাত মিঠু ও বাবু হামলার শিকার হয়। আঘাতে মাথা ফেটে মিঠু রাস্তার মধ্যে পড়ে গেলে দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্মরত ডাক্তার শাকির হোসেন বলেন, মিঠুর মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। একাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে। তাকে পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে লিয়াকত আলী অভিযোগ করে বলেন, জাল ডেলিগেট করে ভোট গ্রহণের প্রতিবাদ করায় এমন হামলা হয়েছে। এ জন্য কাউন্সিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জেলা নেতৃবৃন্দ দায়ী। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাইতি এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কর্মী সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান কাউন্সিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক টিমের প্রধান তাসকিন আহমেদ চিশতি ও জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি