থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩২, বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ১৩:৪৮

থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। আহত হয়েছেন ১৩০ জনের বেশি। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো গোলাগুলির ঘটনায় উত্তেজনা বাড়ছে এবং সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই।

কাম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালি সোচেতা জানিয়েছেন, নতুন করে আরও ১২ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন বেসামরিক নাগরিক এবং পাঁচজন সৈনিক। এর আগে বৃহস্পতিবার থাই গোলার আঘাতে একটি বৌদ্ধ মন্দিরে লুকিয়ে থাকা এক ব্যক্তি নিহত হন।

থাইল্যান্ড জানিয়েছে, গত দুই দিনের সংঘর্ষে তাদের ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক ও ৬ জন সৈনিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন বেসামরিক ও ২৯ জন সেনা সদস্য। অপরদিকে, কাম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদেরও অন্তত ৫০ জন বেসামরিক এবং ২০ জনের বেশি সেনা আহত হয়েছেন।

সীমান্ত এলাকায় একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে পাঁচজন থাই সেনা আহত হলে বৃহস্পতিবার সংঘাত শুরু হয়। এরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয়পক্ষ একে অপরের ভূখণ্ডে হামলা চালায়। থাইল্যান্ড দাবি করেছে, কাম্বোডিয়ান সেনারা তাদের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে রকেট হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে একটি পেট্রল পাম্পেও হামলা হয়। এতে ছয়জন নিহত হন।

জবাবে থাই সেনাবাহিনী এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিয়ে কাম্বোডিয়ায় বোমা হামলা চালায়। এর মধ্যে একটি বোমা হামলায় ওদ্দার মেইঞ্চে প্রদেশের এক বৌদ্ধ মন্দিরে এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

কাম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার বোমার মতো আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে দাবি করেছে তারা। অপরদিকে বেসামরিক নাগরিক ও একটি হাসপাতালে হামলার কারণে থাইল্যান্ড কাম্বোডিয়াকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।

থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৩০০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কাম্বোডিয়ার প্রেক্ষা ভিহেয়ার প্রদেশ থেকেও প্রায় ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘খমের টাইমস’।

এই পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড সীমান্তের আটটি জেলায় সামরিক আইন জারি করেছে।

এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ নিউইয়র্কে এক জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও, এপির বরাত দিয়ে জানা গেছে, ১৫ সদস্য রাষ্ট্রই উভয় পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন