গোয়েন্দাদের আরবি ও ইসলামি জ্ঞানার্জন বাধ্যতামূলক করলো ইসরায়েল

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ১৪:৫২

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে ঘাটতি সামনে আসায় ব্যাপক সংস্কারে যাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) গোয়েন্দা শাখা ‘আমান’। এই সংস্কারের অংশ হিসেবে এখন থেকে সব গোয়েন্দা সদস্যের জন্য আরবি ভাষা ও ইসলামি সংস্কৃতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। খবর জেরুজালেম পোস্টের।

আইডিএফ-এর বরাত দিয়ে জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেট (জেএনএস) জানিয়েছে, শুধু মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দাই নয়, যেসব সদস্য সাধারণত প্রযুক্তিগত বা লজিস্টিক দায়িত্বে থাকেন, তাদেরও এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।

‘আমান’-এর প্রধান মেজর জেনারেল শলোমি বিন্ডার নতুন এই নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নেতৃত্বেই গোয়েন্দা শাখার মৌলিক কাঠামোয় এ সংস্কার হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের মধ্যে শতভাগ গোয়েন্দা সদস্য ইসলামি অধ্যয়নের প্রশিক্ষণ পাবেন। পাশাপাশি পঞ্চাশ শতাংশ সদস্যকে আরবি ভাষায় দক্ষ করে তোলা হবে।

জেএনএস-এর খবরে আরও বলা হয়, প্রতিটি ব্রিগেড ও ডিভিশন পর্যায়ের গোয়েন্দা অফিসারকে আরব বিশ্ব সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ নিয়োগ-পূর্ব প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে সিনিয়র অফিসার কোর্স পর্যন্ত সব পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আরবি ও ইসলামি সংস্কৃতির প্রশিক্ষণের জন্য একটি নতুন বিভাগ খোলারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই বিভাগে হুতি ও ইরাকি উপভাষার ওপর বিশেষ কোর্স চালু করা হবে। এই অঞ্চলের ভাষাগত বৈচিত্র্য ও স্থানিক উচ্চারণ বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায় থেকে প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

এর পাশাপাশি আবারও চালু করা হচ্ছে ‘টেলেম’ নামের সেই শিক্ষা বিভাগ, যা ইসরায়েলি স্কুলে আরবি ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পাঠদান করত। ছয় বছর আগে বাজেট সংকটে এই বিভাগটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এবার সেটিকে আবার চালু করে স্কুল ও প্রাক-সামরিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরব সমাজ সম্পর্কে বোঝাপড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে আইডিএফ।

ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আরব উপভাষা বোঝার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি হুতি নেতার ওপর ইসরায়েলি হামলা ব্যর্থ হওয়ার একটি কারণ ছিল— খাত (আরবীয় গুল্ম, যা উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে) চিবানো অবস্থায় হুতি নেতার কথাবার্তা অস্পষ্ট ছিল এবং সেটি গোয়েন্দা বাহিনীর অনুবাদকরা বুঝতে পারেননি। এজন্য ভাষাগত প্রেক্ষাপট ও আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক দিকগুলো বোঝার ওপর বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গোয়েন্দা কাঠামোয় এই সংস্কার একটি ‘সংস্কৃতিক বিপ্লব’ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা ভবিষ্যতে হামাস, হুতি কিংবা ইরাকসহ আরব বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের বিষয়ে আরও গভীর বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যদ্বাণী করতে সহায়ক হবে।

ইত্তেফাক/এনএন