গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষ একটি জানাজার নামাজ ও দাফনের সময় হামলার শিকার হন।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার নয় মাস পেরিয়ে গেলেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই চুক্তি ভঙ্গ করে গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি ও আল-আওদা হাসপাতাল জানিয়েছে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় একটি সমাবেশে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় আটজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সেখানে ইসরায়েলের হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজার নামাজ শেষে মরদেহ বহন করে বের হওয়ার সময় এই হামলা চালানো হয়। আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে শোকাহত মানুষের ওপর ড্রোন থেকে সরাসরি বোমা ফেলা হয়।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, মধ্য গাজায় একটি সন্ত্রাসী সেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের খবর জেনেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে বলেও জানিয়েছে।
হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীদের সামনেই ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে।
শুক্রবারের (১৭ জুলাই) এই ঘটনার পাশাপাশি গাজার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় আবু তামাম স্কুলের কাছে ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ-জাওয়ায়দা, নুসেইরাত ও গাজা সিটিতেও আলাদা আলাদা হামলায় আরও কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, নামমাত্র যুদ্ধবিরতি থাকলেও মে মাস থেকে ইসরায়েলের হামলা বেড়েছে। গত মাসে ৪০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, যা যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বেশি।
ইসরায়েলের সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজায় শিশুদের নিয়মিত হত্যা করা হচ্ছে। গত নয় মাসে অন্তত ২৭৪ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু।
গাজাজুড়ে ড্রোনের অবিরাম গুঞ্জন আর ধ্বংসের ছবি সেখানকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সব আশা নষ্ট করে দিচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

