ফের সিএমএইচে এরশাদ, কমে গেছে হিমোগ্লোবিন

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪০

জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ অসুস্থ হয়ে আবারও ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হয়েছেন। শরীর দুর্বল হয়ে কাঁপতে থাকায় সোমবার রাত দুইটার দিকে ব্যক্তিগত এক সহকারীকে নিয়ে তিনি সিএমএইচে যান। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা অনেক কমে যাওয়ায় হাসপাতালে তাকে রক্ত দেওয়া হয়েছে বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন এরশাদের সঙ্গে হাসপাতালে থাকা তার ব্যক্তিগত এক স্টাফ।

এর আগে অসুস্থ হয়ে গত ২৭ নভেম্বর এরশাদ সিএমএইচে ভর্তি হন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতাল থেকে রাজধানীর বারিধারায় প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় ফেরেন। আবারও হাসপাতালে যাওয়ার আগ পর্যন্ত অনুমোদিত কয়েকজন ছাড়া দল বা পরিবারের কেউ তার সঙ্গে বাসায় দেখা করতে পারেননি। গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতালে এরশাদকে দেখতে গেছেন তার সহোদর ও জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, পুত্র সাদ ও তার স্ত্রী এবং জাপার নবনিযুক্ত মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা।

এদিকে, গতকাল বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে রাঙ্গা সাংবাদিকদের বলেন, এরশাদ ‘শতভাগ সুস্থ’ আছেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এরশাদের সিঙ্গাপুরে যাওয়ার প্রয়োজন আছে। কিন্তু দলের স্বার্থে ১০ ডিসেম্বরের আগে তিনি যাচ্ছেন না।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ধোঁয়াশা

জাপা মহাজোটগত নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় রয়েছেন জাপার প্রার্থীসহ নেতা-কর্মীরা। মহাসচিব থাকাকালে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, জাপাকে ৪৫টি আসনে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সম্মত হয়েছে, আরো কয়েকটি আসনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে জাপার বর্তমান কয়েকজন সংসদ সদস্যের এবং দলটি যাদের জন্য আওয়ামী লীগের কাছে আসন চাচ্ছে, সেসব নির্বাচনী এলাকার অনেক স্থানে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী দিয়েছে।

এ ব্যাপারে জাপার নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই মহাজোটের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। যারা নির্বাচনে জিততে পারবেন এবং মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা আছে, তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। মহাজোটের বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হবে মহাজোটের প্রার্থী তালিকা। তিনি আরো বলেন, জাপা ৫৪ থেকে ৫৫টি আসন প্রত্যাশা করছে, যেখানে জাপা জিতে আসতে পারবে। এই আসনগুলোতে জাপার শক্তিশালী প্রার্থী আছে। তবে মহাজোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে জাপার কেউ সংসদ নির্বাচন করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হাওলাদার

সোমবার সকালে দলের মহাসচিব পদ হারানোর পর থেকেই নিজের সবগুলো মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন রুহুল আমিন হাওলাদার। দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। গত দুইদিনে সাংবাদিকরা কয়েক দফায় তার গুলশানের বাসায় ও তেজগাঁওয়ের অফিসে গিয়েও তাকে পাননি। রাঙ্গা ইত্তেফাককে জানান, তার সঙ্গেও হাওলাদারের যোগাযোগ হয়নি। তবে হাওলাদারের ব্যক্তিগত স্টাফরা জানান, সোমবার সকালে হাইকোর্টে গেছেন রুহুল আমিন হাওলাদার। এছাড়া ব্যক্তিগত কাজকর্মে ব্যস্ত রয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে তিনি দলের ও গণমাধ্যমের কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। রাঙ্গা সাংবাদিকদের বলেন, জাপার কেউ মনোনয়ন-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকলে প্রেসিডিয়ামে আলোচনার মাধ্যমে কমিটি গঠন করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সাবেক মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার শারীরিক অসুস্থতার জন্য নিজেই পার্টি চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগ করেছেন, তবে তিনি এখনও পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আছেন।