কুমিল্লার মুরাদনগরে ফুটবল খেলার মাঠে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস ঢুকে দর্শকদের চাপা দিয়েছে। এতে গিয়াস উদ্দিন (৪৩) নামে এক অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও পাঁচজন আহত হন।
শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে মুরাদনগর উপজেলার ডিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গিয়াস উদ্দিন মুরাদনগর উপজেলার দুলারামপুর গ্রামের মৃত শহীদ মিয়ার ছেলে। মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে মুরাদনগর উপজেলার ডিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা চলছিল। এ সময় ইলিয়টগঞ্জ এক্সপ্রেস নামের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাঠে ঢুকে দর্শকদের চাপা দিলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। তখন দর্শকরা বাসটি ভাঙচুর করেন।
আহতরা হলেন- দুলারামপুর গ্রামের কাশেম মিয়ার ছেলে গোলাম রাব্বানী (১৮), গকুলনগর গ্রামের আবদুস সোবহান মিয়ার ছেলে শাহজালাল (৪৫), দড়িকান্দি গ্রামের রশিদ মিয়ার ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩০), মুরাদনগর গ্রামের অনিল চন্দ্র বর্মণের ছেলে হৃত্তিক চন্দ্র বর্মণ (২০) ও কামারচর গ্রামের বারেক মিয়ার ছেলে দুদু মিয়া (৫৬)।
এই দুর্ঘটনার জন্য আয়োজকেরা পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছেন। তবে পুলিশ বলছে, আয়োজকেরা তাদের কাছ থেকে অনুমতি নেননি এবং নিরাপত্তা চাননি।
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, দুই মাস ধরে এই খেলা চলছে। গতকাল ফাইনাল খেলায় প্রায় এক লাখ দর্শকের ঢল নামে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে দাওয়াত করা হয়েছিল। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে থানার ওসির পক্ষ থেকে মাত্র একজন এসআই ও তিনজন কনস্টেবল পাঠানো হয়। তারা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা রাখেননি, যদিও থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে এই খেলা হয়েছে।
কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘বাসটি আধা ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিল। হঠাৎ এটি দর্শকদের ওপর উঠিয়ে দিয়ে একজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয় লোকজন বাসের চালক ও হেলপারকে পিটিয়ে পুলিশে দিলেও তাদের হেফাজতে নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। যার কারণে আমাদের মনে সন্দেহ জাগে, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। এ ছাড়া বাসটির মালিক একজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেও জানতে পেরেছি। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চাই।’
তবে পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো প্রকার নিরাপত্তা বা অতিরিক্ত ফোর্স চাওয়া হয়নি। এখানে এত মানুষের ঢল নেমেছে, সেই হিসেবে আয়োজকদেরও কোনো প্রস্তুতি ছিল না। চালক ও হেলপারকে কেউ আমাদের কাছে সোপর্দ করেননি। তবে ঘটনার পর পুলিশ বাসটিকে জব্দ করে হেফাজতে নিয়েছে।’
বিএনপি নেতার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, ‘যারা অভিযোগ তুলছে, তারা এর আগেও আমার বিরুদ্ধে মিছিল, মানববন্ধন করেছে এবং মামলাও করেছে। খেলার বিষয়ে আমার কাছে লিখিতভাবে কোনো নিরাপত্তা চাওয়া হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখবে।’

