জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার শেষ সম্বল ছিল একটি ছোট্ট টং দোকান। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সেই দোকানেই দিন-রাত পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতেন হোমনা উপজেলার লুৎফর রহমান লুতু। কিন্তু একের পর এক চুরির ঘটনায় এখন সেই পরিবারটি দিশেহারা। চোখের সামনে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন লুট হয়ে যেতে দেখে কান্না ছাড়া যেন আর কিছুই করার নেই তার।
গত রোববার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাতে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের শোভারামপুর দক্ষিণপাড়া সরদার বাড়ির মরহুম খুরশেদ মিয়ার প্রতিবন্ধী ছেলে মো. লুৎফর রহমান লুতুর টং দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত লুৎফর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ছোট্ট এই টং দোকানটিই তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। এর আগেও একই দোকান থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছিল। সেই ক্ষতি সামলে আবার নতুন করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এবার চোরেরা নগদ অর্থ ও বিভিন্ন মালামালসহ প্রায় ১৩ হাজার টাকার সম্পদ নিয়ে গেছে। ধারদেনা করে দোকান চালানো এই পরিবারটির জন্য নতুন এই ক্ষতি যেন আরেকটি বড় আঘাত হয়ে এসেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন অসহায় প্রতিবন্ধীর একমাত্র জীবিকার ওপর বারবার এমন আঘাত শুধু একটি পরিবারের ক্ষতিই নয়, বরং সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিও প্রশ্ন তোলে। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত লুতুর পুনর্বাসনে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

