মানিকগঞ্জের সিংগাইর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কুপ্রস্তাব দেওয়া উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খানকে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় পদায়নের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (২৭ জুলাই) বান্দরবান মুক্তমঞ্চের সামনে ‘বান্দরবান আদিবাসী ছাত্র সমাজে’র ব্যানারে আয়োচিত মানববন্ধন থেকে এ ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
এ সময় উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খানের বান্দরবান পার্বত্য জেলায় পদায়ন বাতিলের দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য ‘চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)’ সভাপতি উশৈহ্লা মারমা। শিক্ষার্থী লাবনী তঞ্চঙ্গ্যা, এডিশন চাকমা, শিমুল তঞ্চঙ্গ্যা, নেলসন ত্রিপুরা, ফিলিপ খেয়াংসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আদিবাসী শিক্ষার্থীরসহ আরও অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বক্তাদের বলেন, বান্দরবান একটি শান্তি ও সম্প্রীতির জেলা। এখানে কেন প্রতিবার বিভিন্ন জেলায় নানা অপরাধে জড়িত শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তিদের শাস্তির যোগ্য বদলি হিসাবে বান্দরবানে পাঠানো হবে। তার মানে এ জেলার সব কর্মকর্তা নানাভাবে অপরাধী, নাকি এই জেলার কর্মকর্তারা অন্য জেলার অপরাধীদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতা। আমরা চাই, দ্রুত উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খানের বান্দরবানে বদলি বাতিল করতে হবে। আগামীতে যেন আর কোনো দুর্নীতিবাজ চরিত্রহীন কর্মকর্তাদের শাস্তি হিসেবে বান্দরবানে বদলি করা না হয়, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
এর আগে গত ১৩ জুলাই ও ১৫ জুলাই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলে শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসানের কাছে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দুজন অভিযোগ অভিভাবক।
ওই অভিযোগ তদন্তে গঠিত হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. আব্দুল্লাহ বিন শফিককে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়। এরপর গত ১৭ জুলাই এ ঘটনায় ইত্তেফাক অনলাইনে ‘‘ছাত্রী ও নারী সহকর্মীকে কুপ্রস্তাব, শিক্ষা কর্মকর্তা বললেন ‘ইয়ার্কি করেছি’।’’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মেয়ে সিংগাইর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বয়স ১৩ বছর। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মেয়েদের মোবাইল নম্বরে ও ফেসবুক মেসেঞ্জারে নানা সময় আপত্তিকর বার্তা ও কুপ্রস্তাব পাঠান। মেয়েদের কাছ থেকে তারা বিষয়টি জানতে পারেন।
তাছাড়া উপজেলার এক নারী কর্মকর্তা বলেন, মনিরুজ্জামান খান এ ধরনের বাজে আচরণ আমার সঙ্গেও করেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান ইত্তেফাকের প্রতিবেদকের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেছিলেন। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান তিনি।
ইতোপূর্বে এক নারী কর্মকর্তার সাথে বাজে আচরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘ওটা ইয়ার্কি-ফাইজলামি করেছিলাম। পরে সেটা সংশোধন করে ফেলছি।’

ছাত্রীকে কুপ্রস্তাবের পর ‘ইয়ার্কি করেছি’ বলা সেই কর্মকর্তাকে বান্দরবানে বদলি