শীত ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে চায়ের দাম বাড়ছে। সাধারণত শীত নামার সঙ্গে সঙ্গে চায়ের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। দামও বাড়ে। তবে এবার সামনে সংসদ নির্বাচন থাকায় চায়ের চাহিদা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ইতোমধ্যে পাইকারি বাজারে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কেজিপ্রতি ১২০ টাকা পর্যন্ত পণ্যটির দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকরা বলছেন, অনেক বছর ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনে চা গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে আছে। ভোটারের মনোযোগ আকর্ষণ, প্রচার-প্রচারণা, নির্বাচনী আড্ডা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে চায়ের ব্যবহার হচ্ছে। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিসেম্বরে নির্বাচনী কার্যক্রম চলবে। একদিকে শীতের প্রকোপ, অন্যদিকে রাজনৈতিক উত্তাপের ফলে গ্রাম এলাকায় চায়ের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যাবে। এ কারণে ইতোমধ্যে পাইকারি বাজারে খোলা চায়ের চাহিদা বেড়ে গেছে। চাহিদা অনুযায়ী যদি ঘাটতি থাকে তাহলে খুচরা পর্যায়েও চায়ের দাম আরও বাড়বে। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা নিলাম থেকে অগ্রিম চা সংগ্রহ করে মজুদের চেষ্টা করেন। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জে চায়ের চাহিদার অতিরিক্ত জোগান দিতে গিয়ে খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়ে যায়।
খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে প্রতি কেজি শওয়ালেস ক্লোন চা বিক্রি হতো প্রতি ৫০০ গ্রাম ১৭৫ টাকায়। কিন্তু দুই মাসের ব্যবধানে নভেম্বরে এর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৫ টাকায়। সিলন ব্র্যান্ডের চা প্রতি ৫শ গ্রাম আগে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ টাকায়। নভেম্বর মাসের শুরুতে দেশের শীর্ষ চা বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চায়ের দাম কেজিপ্রতি আরও ৩০ টাকা করে বাড়িয়েছে।
চা বোর্ড সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগেও খুচরা ও মোড়কজাত চায়ের দাম ছিল প্রতি কেজি ২৫০-৪০০ টাকার মধ্যে। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিলামে অক্টোবর চায়ের দাম অনেক কম ছিল। কিন্তু নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ২৬তম নিলামে চায়ের গড় দাম কেজিপ্রতি ৩শ ৩৪ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এতে ১৭ শতাংশ শুল্ক পরিশোধের পর গুদাম থেকে চা সংগ্রহ করে মোড়কজাত ও বাজারজাত করতেই কেজিপ্রতি মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৪শ টাকার কাছাকাছি। ফলে খুচরা বাজারে গিয়ে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ৪শ থেকে ৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া গত বর্ষায় দেশের চা বাগানগুলোতে উত্পাদন আশানুরূপ না হওয়ায় বাজারে চায়ের কিছুটা ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। দাম বৃদ্ধিতে এই ঘাটতিও একটা ভূমিকা রাখছে।
এদিকে দেশি বাগান মালিকদের সুরক্ষা দিতে আমদানিকৃত চায়ে অতিরিক্ত শুল্কারোপ করার পর প্রাথমিকভাবে আমদানি কিছুটা কমলেও শীত ও নির্বাচনকালীন চাহিদাকে সামনে রেখে পণ্যটির বিপণনকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বাড়তি খরচেই বিশ্ববাজার থেকে চা সংগ্রহ করছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে চা আমদানি হয়েছে ৩৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩০ কেজি। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই আমদানি হয়েছে ২৫ লাখ ১৭ হাজার কেজি। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামের আরেক মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, নিলামে চায়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় শীত ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের কিছু ব্যবসায়ী কম দামে চোরাইপথে চা সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে ফেনী, কুমিল্লাসহ সীমান্ত এলাকাগুলো দিয়ে ভারত থেকে চা সংগ্রহের চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।
