ডিপ স্টেটের ফাঁদে বাংলাদেশ!

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৫, ২৩:৪৩

বাংলাদেশ ডিপ স্টেটের ফাঁদে পড়েছে। নির্বাচন নিয়ে সরকার যখন ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হতে যাচ্ছে ঠিক তখনই নির্বাচন আটকাতে ডিপ স্টেটের কারিগররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সামনে আরো ভয়ংকর রুপে দেখা যাবে। এই ডিপ স্টেটের কুশিলবদের পেছনে আছে বিদেশি রাষ্ট্র, গোয়েন্দা সংস্থা, স্যোশাল মিডিয়া, বাংলাদেশের গণমাধ্যম এবং সরকারের ভিতরে থাকা অদৃশ্য শক্তি। সরকারের ভিতরের আরেকটি সরকার হলো এই ডিপ স্টেট। এদের কার্যক্রম খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র থাকে নিঁখুত। রাষ্ট্রের অঙ্গগুলি ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে ওরা। 

বাংলাদেশকে অদৃশ্যভাবে বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করছে এই ডিপ স্টেটের সাঙ্গোপাঙ্গরা। এদের লক্ষ্য থাকে সরকারকে কাঙ্খিতভাবে লক্ষ্যচ্যুত করা। সরকারের কী-পয়েন্টে থেকে সরকারকে ভুলভাবে পরিচালনা করে নিজেদের স্বার্থকে হাসিল করা। বিগত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ডিপ স্টেট। সরকারের ভিতরের এই ছায়া সরকার খুবই বিপজ্জনক। মেইনস্ট্রিমের রাজনৈতিক দলগুলোকে ভুলভাবে পরিচালিত করে থাকে। এদের আবার ফান্ডিং করে থাকে বিদেশি শক্তি। 

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে অন্যতম বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে ডিপ স্টেটের কারিগররা। তারা আগামীতে যা করতে পারে তার অন্যতম  হলো নির্বাচন ইস্যুতে গণঅভ্যুত্থানের স্বপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করা। রাজনীতিতে বিভিন্ন ইস্যুতে পরস্পর বিরোধী অবস্থান তৈরি করবে। ছাত্র-সংসদ নির্বাচনে ডিপ স্টেট ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। তাদের মনোনীত প্রার্র্থীদের বিজয়ী করে রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াবে। ডিপ স্টেটের মনোনীত রাজনৈতিক দল দিয়ে অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য মাঠ সরগরম করে তুলবে। এই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিকল্প পথে হাঁটবে তারা। সেই বিকল্প পথ হলো-দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচনের অনুপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। 

মিয়ানমারের কথিত মানবিক করিডরের নামে পরাশক্তির লড়াই হবে। সেই সুযোগে মিয়ানমার থেকে অবৈধ অস্ত্র ঢুকতে পারে মানবিক করিডর দিয়ে। সেই অস্ত্র ব্যবহার হতে পারে দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার পেছনে। কোনোভাবে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে সফল হলে ফ্যাসিবাদকে সহজেই রাজনীতির সুযোগ করে দিতে পারবে। এতে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি সংকটে পড়ে যাবে। 

অতএব আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন যতটা সহজ মনে হচ্ছে আসলে বাস্তবে সেটি ভাববার সুযোগ নেই। অনেক কাঠখড়া পেরিয়ে বাংলাদেশকে নির্বাচনের দিকে ধাবিত হতে হবে। ক্ষমতার ভাগবাটোয়ার রাজনীতি জুলাই-আগস্ট পক্ষের শক্তির ভিতরে ইতোমধ্যে বিভক্তি রেখা টেনে দিতে সক্ষম হয়েছে। ডিপ স্টেট কারিগরদের ‘পাবলিক এজেন্ডা সেটিং থিওরি’ সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এরা প্রতি মুহূর্তে এজেন্ডা সেটিং করবে। জনগণকে তাদের নিয়ন্ত্রিত মাধ্যম দিয়ে বিভ্রান্ত করবে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানকে পুঁজি করে যে কোনো পরিস্থিতিতে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে। 

সামনে হয়তো আমরা দেখবো নির্বাচনের আগে কিছু উপদেষ্টা একটি রাজনৈতিক দলে যোগদান করবে। সেই দলকে ক্ষমতায় আনবার জন্য ছায়ার মতো যুদ্ধ করবে। কিন্তু একটি সময় হাল ছেড়ে দিবে; যদি বাকি প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো পরিস্থিতি বুঝে নিয়ন্ত্রিত ভূমিকায় থাকতে পারে তাহলে তারা জাসদের ভূমিকায় চলে যাবে। একসময় ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্র মুখ থুবড়ে  পড়বে। এজন্য প্রতিটি মুক্তিকামী রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতাকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি পরিত্যাগ করতে হবে। এ টুকু বলা যেতে পারে যে, সকলে ঐক্য থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। 

৫ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা যখন জাতির উদ্দেশে ভাষণে নির্বাচন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা দেবেন, তখন থেকে এই ডিপ স্টেটের চক্রান্তকারীরা নানারুপে বিভক্তির খেলায় মেতে উঠবে। এজন্য কোনো রাজনৈতিক দলের উচিত হবে না কোনো ফাঁদে পা না দেওয়া। সতর্ক দৃষ্টিতে অগ্রসর হতে হবে। ভুলপথে গেলে সব অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। 

বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কোনোভাবেই বাঁধাগ্রস্থ করা যাবে না। যেকোনো মূল্যে আগামীতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি আগামী বছরের শুরুতেই জনগণের রায়ে বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার আসবে। বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলেই সেই সরকারকে সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। অধিকারহীন বাংলাদেশের মানুষ তার প্রাপ্ত অধিকার বুঝে পাবে। 

লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ইত্তেফাক/এমএএম