রাজশাহীতে রিকশাচালককে জুতা ও লাঠি দিয়ে মারধরের ঘটনায় আলোচনায় আসা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসানের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বরখাস্তকালীন সময়কে কর্মকাল হিসেবে গণ্য করে তাকে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
গত ২৭ জুলাই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, রাজশাহীর পবা উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় জাহিদ হাসান এক রিকশাচালককে ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে জুতা ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
তৎকালীন গণধিকৃত এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে রাজশাহীর জাজেস কোয়ার্টার এলাকায়, যেখানে সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান তার স্ত্রীর সঙ্গে যাচ্ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিকশাচালক ঠিকমতো ভাড়া না পেয়ে ক্ষোভে তাকে ‘লাটসাহেব’ বলে মন্তব্য করেন। এরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে জাহিদ হাসান রিকশাচালককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
ঘটনার পর ৩ মার্চ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক শহীদুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়।
তার ভিত্তিতে ২২ জুলাই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার এবং ২৭ জুলাই পুনরায় পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান।
