আবারও বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। গত দুই দিনের ব্যবধানে মাঝারি মানের চাল পাইজাম/লতা কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম বাড়ার এ তালিকায় রয়েছে সয়াবিন তেল, পামঅয়েল, মসুর ডাল, মুগ ডাল ও পেঁয়াজও।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজার, নিউ মার্কেট ও তুরাগ এলাকার নতুনবাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার এ তথ্য পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চালের দাম বাড়ার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। বোরো মৌসুমের শুরুতে সরকারের মজুত নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অসাধু মজুতদার ও করপোরেট চাল ব্যবসায়ীরা বেশি পরিমাণে ধান কিনে মজুত করে রেখেছেন। কৃষকের ধান সাধারণ মিলারদের হাতে একেবারে নেই বললেই চলে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। তবে বর্তমানে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চাতালে চাহিদামতো ধান শুকানো যাচ্ছে না। ফলে চালের উত্পাদন ও সরবরাহ কিছুটা হলেও ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চালের দামে।
গতকাল রাজধানীর খুচরাবাজারে প্রতি কেজি পাইজাম/লতা ৬০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। যা দুই দিন আগেও সর্বোচ্চ ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে নাজিরশাইল/মিনিকেট ও ইরি/স্বর্ণার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। যদিও গত এক মাসের ব্যবধানে এসব চালের দামও বাড়তি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি নাজিরশাইল/মিনিকেট ৭৫ থেকে ৮৭ টাকা ও ইরি/স্বর্ণা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে প্রতি কেজি নাজিরশাইল/মিনিকেট ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা, পাইজাম/লতা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও ইরি/স্বর্ণা ৫২ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) তাদের বাজারদরের প্রতিবেদনে চালের দাম বাড়ার তথ্য জানিয়েছে। চালের পাশাপাশি রাজধানীর খুচরাবাজারে গত দুই দিনের ব্যবধানে সয়াবিন, পামঅয়েলের দামও বেড়েছে। প্রতি দুই লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলে পাঁচ টাকা বেড়ে ৩৭৫ থেকে ৩৭৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি লিটার খোলা পামঅয়েলে দুই টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ও সুপার পামঅয়েলে ২ টাকা বেড়ে ১৫২ থেকে ১৬২ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
বেড়েছে মসুর ডালের দাম। গতকাল বাজারে প্রতি কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে মাঝারি দানার মসুর ডাল ১০৫ থেকে ১২৫ টাকা ও ছোট দানা মসুর ডাল ১৩০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসুরের পাশাপাশি মুগ ও অ্যাংকর ডালের দামও বাড়তি। এক দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি মুগ ডালে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি মুগ ডাল মানভেদে ১২০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়; যা এক দিন আগে ১১০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর অ্যাংকর ডালের কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে তা ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে দেশি পেঁয়াজের দামও বাড়তি। গতকাল রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে; যা এক দিন আগেও ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কাওরান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আকবর বলেন, পেঁয়াজের মৌসুম অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এখন বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কম। তবে অক্টোবর, নভেম্বরের আগে পেঁয়াজ নিয়ে সমস্যা হওয়ার কারণ নেই। এখন বৃষ্টির কারণে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কম। তবে আবহাওয়া ভালো হলে এ সমস্যা থাকবে না।
বাজারে এখনো বেশির ভাগ সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। গতকাল খুচরা বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে পটোল ৫০ টাকা, করল্লা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, টম্যাটো ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শসার দাম। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে হাইব্রিড শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা ও দেশি শসায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে তা ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচা মরিচ মানভেদে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। কেজিতে পাঁচ টাকা কমে তা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরনের চাষের মাছের মধ্যে কই ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, রুই, কাতল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৯৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছের দাম নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে। গতকাল বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলেছেন—চাঁদপুর, বরিশালসহ বড় মোকামগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ আসছে। আর ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমবে বলে তারা আশা করছেন।
