সপরিবারে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। সেখান থেকেই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলে (আইসিসি) দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজের পরিধি ছিল পুরো এশিয়া জুড়ে। কিন্তু সেই পরিণত, অভিজ্ঞ পেশাদার আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজ দেশের ডাকে সাড়া না দিয়ে পারেননি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির দায়িত্ব নিতে ফিরে এসেছেন স্বদেশে। যেখানে শুরু থেকেই তার ঘোষণা ছিল স্পষ্ট- এটা হবে স্বল্প সময়ের একটি 'টি-টোয়েন্টি ইনিংস'। আর সেই ইনিংস খেলতে নেমেই লক্ষ্য বেঁধেছেন ট্রিপল সেঞ্চুরির।
'শতভাগ বিশ্বাস, শতভাগ প্রোগ্রাম ও শতভাগ লক্ষ্যে পৌঁছানো'- এই তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বুলবুলের চিন্তা-দর্শন। নিজস্ব ভাবনায় নির্দিষ্ট তিনটি উদ্যোগ তিনি নির্ধারণ করেছেন। প্রথম উদ্যোগ, ক্রিকেটের আত্মাকে আপডেট করা। আধুনিক সময়ের দাবি মেনে খেলার সংস্কৃতি, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধে পরিবর্তন আনার অভিপ্রায় তার। দ্বিতীয়ত, হাই পারফরম্যান্স নীতি কেবল খেলোয়াড় নয়, বিসিবির কর্মীদের মধ্যেও বাস্তবায়ন করা। মাঠ ও মাঠের বাইরের কর্মদক্ষতাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তুলতে চান দক্ষ ব্যবস্থাপনার কাঠামো। তৃতীয় উদ্যোগ, আঞ্চলিক ক্রিকেটের জোরালো বিস্তার। বহু বছর ধরেই বাংলাদেশে আঞ্চলিক ক্রিকেট ব্যবস্থার অভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। বুলবুল সেই আলোচনাকেই রূপ দিতে চান বাস্তবায়নে।
বিসিবির সভাপতির আসন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ একটি পদ। কিন্তু বুলবুল বরাবরই জানিয়ে এসেছেন, চেয়ার নয়, তিনি এসেছেন কাজ করতে। বিসিবিতে নির্বাচন করার কোনো অভিপ্রায় নেই তার। বরং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবেই স্বল্প সময়ের জন্য আসন গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি পরিবারের টানে অস্ট্রেলিয়া গেছেন বুলবুল। সেখানে যাওয়ার আগে তিনি আবারও বলেছেন, 'আমি নির্বাচন করবো না। আমি এসেছি কেবল দায়িত্ব পালনের জন্য। সময়মতো নির্বাচন হবে।'
আগামী অক্টোবরের মধ্যেই বিসিবির নির্বাচন হওয়ার কথা। বুলবুলের অস্থায়ী ইনিংস শেষ হওয়ার সময়ও তখনই। দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বিপিএল নিয়েও ছক কষে যাচ্ছেন তিনি। তার মতে, 'সবশেষ বিপিএলটা অতো ভালো হয়নি।' তাই নতুন বিপিএল আয়োজনকে সামনে রেখে কাজ চলছে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের মানদণ্ডে। বুলবুল নিজেই জানিয়েছেন, 'বিপিএল টিম অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।'
বুলবুল জানেন সময় কম। তাই শুরুতেই বলেছিলেন, 'দ্রুত একটি টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলবো।' সময় বেঁধে নিয়েই এসেছেন তিনি, লক্ষ্য ঠিক করে নিয়েই মাঠে নেমেছেন। এমন একজন সাবেক অধিনায়ক, যিনি দেশের ক্রিকেটের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ানও, তার ভাবনায় স্বচ্ছতা, উন্নয়ন এবং বিকেন্দ্রীকরণের স্পষ্ট ছাপ।
তিনি যদি বিসিবি সভাপতির চেয়ারে দীর্ঘ সময় না-ও থাকেন, তার রেখে যাওয়া নীতি ও রূপরেখা ভবিষ্যতের বিসিবি প্রশাসনের জন্য হতে পারে এক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। এই স্বল্প সময়ের টি-টোয়েন্টি ইনিংস শেষে বুলবুলের নামটিই হয়তো মনে করিয়ে দেবে- চেয়ারের মোহে নয়, দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠাই আসল পরিচয়। তিনি বিসিবির নির্বাচন না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেখানেই অটল রয়েছেন। যেমন অটল রয়েছেন ত্রিপল সেঞ্চুরির লক্ষ্য পূরণ করতে। তবে নির্বাচন না করলেও যদি সামনে সুযোগ থাকে বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার, সেটি তিনি করবেন বলে জানিয়েছেন।
