ভারতের অর্থনীতিকে ‘মৃত’ আখ্যা দিয়ে দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, সারা পৃথিবী জানে, বিজেপি ভারতের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। কীভাবে? আদানিকে সহায়তা করে।’ খবর টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাহুল এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ভারতীয় পণ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হবে।
এমন সিদ্ধান্ত ভারতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আঘাত করতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
গত ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে বলেন, রাশিয়ার তেল ও অস্ত্র কেনার জন্য ১ আগস্ট (আজ) থেকে ভারতের ওপর এ জরিমানা কার্যকর হবে। এমন এক সময় ট্রাম্প এ ঘোষণা দিলেন, যখন সবাই চায় রাশিয়া ইউক্রেনে হত্যাযজ্ঞ চালাক।
রেটিং এজেন্সি ইক্রার প্রধান অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শুল্ক ও জরিমানা আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এটি ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করবে আরোপিত জরিমানার আকারের ওপর।’ শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিকূল প্রভাবের কারণে ইকরা আগেই এ অর্থবছরে ভারতের জন্য তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পূর্বাভাস ৬ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ করেছে।
কয়েক মাস ধরে বাণিজ্য চুক্তি করতে বেশ কয়েক দফা আলোচনা করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। দিল্লি যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করতে বোর্বন হুইস্কি ও মোটরসাইকেলের মতো পণ্যে শুল্ক কমায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের। ট্রাম্পের নজর এ ঘাটতি কমানোর দিকেই।
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণায় ভারতজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনীতিবিদ, বিশেষজ্ঞ ও শিল্প খাত-সংশ্লিষ্টরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ভারতের শিল্প খাতের এফআইসিসিআইর প্রেসিডেন্ট হর্ষবর্ধন আগারওয়াল এটাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। এ শুল্ক স্পষ্টভাবে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানান তিনি।

