প্রায় ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রার্থী বাছাই ও প্যানেল গঠন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ সাম্প্রতিক সময়ের ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ও পরিচিত মুখদেরই এবার প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে অধিকাংশ ছাত্র সংগঠন।
গত ২৯ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর।
নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রার্থী বাছাই, প্যানেল গঠন ও কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলো। সবাই বলছে—প্যানেলে নারী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নাম আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যেসব নেতাকর্মী সামনে ছিলেন, তাদের অগ্রাধিকার দিচ্ছি। প্রার্থী নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের সমর্থনই হবে আমাদের মূল ভিত্তি।”
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও সক্রিয় নেতাদের প্রার্থী করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ বলেন, “প্যানেলে নারী ও সংখ্যালঘুদেরও জায়গা থাকবে। যারা গণ-আন্দোলনে সামনে ছিলেন, তারাই আমাদের প্রার্থী।”
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার ও সদস্য সচিব জাহিদ আহসানও আছেন আলোচনায়। জাহিদ বলেন, “আমাদের প্যানেলে নারী প্রতিনিধিত্বসহ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীরা থাকবেন। ভালো সাড়া পাবো বলে আশা করছি।”
ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকেও আলাদা প্যানেলের ঘোষণা এসেছে। সংগঠনটির সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, “সংখ্যালঘু থেকে শুরু করে সব শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে আমাদের প্যানেল গঠন করা হবে।”
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসুও।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই কে হচ্ছেন প্রার্থী, কারা গঠন করছেন প্যানেল—তা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। অনেকেই আশা করছেন, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন নতুন নেতৃত্ব, প্রতিনিধিত্ব এবং কার্যকর ডাকসু গঠনে সহায়ক হবে।
আগামী সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রার্থী ও প্যানেল ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী জমে উঠছে ডাকসু নির্বাচনের রাজনীতি।
